বহুরূপী গল্পের মূল বিষয়:
সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পটি হরিদা নামক এক অতি দরিদ্র কিন্তু বিচিত্র স্বভাবের মানুষের জীবন সংগ্রামের কাহিনী। হরিদা পেশায় একজন বহুরূপী; অভাব যাঁর নিত্যসঙ্গী, কিন্তু একঘেয়ে কোনো ধরাবাঁধা কাজ বা চাকুরির শৃঙ্খলা তাঁর নাপসন্দ। তিনি স্বাধীনতার স্বাদ পেতে ভালোবাসেন এবং সেই স্বাধীনতার মূল্য হিসেবে অনেক সময় তাঁকে অনাহারেও দিন কাটাতে হয়। শহরের এক সংকীর্ণ গলির ছোট ঘরে তাঁর বসবাস, যেখানে লেখক ও তাঁর বন্ধুরা নিয়মিত আড্ডায় সমবেত হন। গল্পের শুরুতে আমরা দেখি জগদীশবাবু নামক এক ধনী ও কৃপণ ব্যক্তির বাড়িতে এক হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর আগমনের কথা শোনে হরিদা। সেই সন্ন্যাসী ছিলেন অতি উচ্চ দরের এবং তাঁর পায়ের ধুলো পাওয়া ছিল অসম্ভব। জগদীশবাবু কৌশলে সন্ন্যাসীকে সোনার বোল লাগানো খড়ম পরিয়ে পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন এবং বিদায়কালে তাঁর ঝোলায় জোর করে একশো টাকার একটি নোট গুঁজে দিয়েছিলেন। এই সন্ন্যাসীর গল্প শোনার পর হরিদার মধ্যে এক পেশাদারী জেদ কাজ করে। তিনি বন্ধুদের জানান যে এবার তিনি এমন এক কাণ্ড করবেন যাতে তাঁর সারা বছরের অন্নের সংস্থান হয়ে যাবে এবং তিনি সেই খেলা দেখানোর জন্য বন্ধুদের সন্ধ্যাবেলা জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত থাকতে বলেন।
সন্ধ্যাবেলা জগদীশবাবুর উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত বারান্দায় এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে হঠাৎ আবির্ভূত হন এক 'বিরাগী'। তাঁর শান্ত, সৌম্য এবং উজ্জ্বল দৃষ্টির সামনে জগদীশবাবু স্তম্ভিত হয়ে যান। হরিদার সেই বিরাগী রূপ ছিল নিখুঁত এবং ঐশ্বরিক। জটাজুট বা গৈরিক বসনহীন সেই বিরাগী ছিলেন শ্বেত বসনধারী এবং হাতে ছিল কেবল একটি গীতা। তিনি জগদীশবাবুকে তাঁর ধনের অহংকারের জন্য মৃদু তিরস্কার করেন এবং নিজেকে এই ব্রহ্মাণ্ডের ধূলিকণা হিসেবে পরিচয় দেন। জগদীশবাবু বিরাগীর আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বে এতটাই বিমোহিত হন যে তিনি তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করার উপক্রম করেন এবং বার বার তাঁকে বাড়িতে থাকার অনুরোধ জানান। এমনকি বিরাগী যখন প্রস্থানের কথা বলেন, তখন জগদীশবাবু তাঁর তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান। আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা হরিদার বন্ধুরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন যে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী হরিদা সেই প্রণামীর টাকার থলিটি অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ধুলোর মতো সোনাকেও মাড়িয়ে দিয়ে শান্ত পায়ে সেখান থেকে চলে যান।
গল্পের শেষে দেখা যায় হরিদা তাঁর নিজের ঘরে উনানের সামনে বসে আছেন। বন্ধুরা যখন তাঁকে তাঁর এই অদ্ভুত আচরণের কারণ জিজ্ঞেস করেন যে কেন তিনি অতগুলো টাকা নিলেন না, তখন হরিদার উত্তর ছিল শিল্পীর এক চরম সত্যোপলব্ধি। তিনি জানান যে বিরাগীর সাজ পোশাক পরে যদি তিনি টাকার প্রতি লোভ দেখাতেন, তবে তাঁর 'ঢং' অর্থাৎ বহুরূপীর শিল্পের অমর্যাদা হতো। একজন খাঁটি বিরাগী কখনও টাকা স্পর্শ করতে পারেন না, আর হরিদা শিল্পী হিসেবে সেই চরিত্রের প্রতি সৎ থাকতে চেয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁর দারিদ্র্য ঘুচল না, উনানের হাঁড়িতে ভাতের বদলে শুধু জল ফোটার যে ট্র্যাজেডি তা অব্যাহতই রয়ে গেল। গল্পটি আমাদের শেখায় যে শিল্পীর কাছে নিজের শিল্পের মর্যাদা ও আদর্শ জাগতিক অভাব-অনটনের চেয়েও অনেক বড়। হরিদা হয়তো পেশাদারী জীবনে ব্যর্থ হলেন কিন্তু একজন খাঁটি শিল্পী হিসেবে তিনি জয়ী হলেন। গল্পের শেষে তাঁর সেই লজ্জিত হাসি এবং মাত্র আট আনা বকশিশের আশা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্যিকারের শিল্পীরা দারিদ্র্যকে মেনে নিলেও নিজের শিল্পের সততাকে বিসর্জন দেন না। এভাবেই সুবোধ ঘোষ হরিদার চরিত্রের মধ্য দিয়ে শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা এবং দারিদ্র্যের এক করুণ কিন্তু মহৎ রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
বহুরূপী গল্পের নামকরণের সার্থকতা:
সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পটির নামকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং গভীর ব্যঞ্জনাধর্মী। একটি সার্থক নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু, কেন্দ্রীয় চরিত্র অথবা গল্পের অন্তর্নিহিত মূল সুরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। এই গল্পটির ক্ষেত্রেও আমরা দেখি যে 'বহুরূপী' শব্দটি কেবল হরিদার পেশাকেই ইঙ্গিত করে না, বরং এটি শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে মানুষের চিরন্তন লড়াইয়ের এক প্রতীকী প্রকাশ হয়ে উঠেছে। গল্পের নামকরণটি কেন সার্থক, তা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
গল্পের শুরুতেই আমরা পরিচিত হই হরিদা নামক এক বিচিত্র চরিত্রের মানুষের সঙ্গে। হরিদা পেশায় একজন বহুরূপী। তাঁর জীবন অতি সাধারণ এবং অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে কাটে। শহরের একটি সংকীর্ণ গলির ছোট ঘরে তিনি বাস করেন। তাঁর উনানে প্রতিদিন চাল ফোটে না, অনেক সময় কেবল জল ফুটিয়েই তাঁকে খিদের জ্বালা মেটাতে হয়। তবুও হরিদার চরিত্রে একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়—তিনি একঘেয়ে বাঁধাধরা কাজ পছন্দ করেন না। জীবনের একঘেয়েমিকে দূর করার জন্যই তিনি বহুরূপী পেশাকে বেছে নিয়েছেন। তিনি মাঝে মাঝেই বিচিত্র সাজে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় বের হন। কখনও তিনি পাগল সাজেন, কখনও বাইজি, কখনও বা বাউল, কাপালিক কিংবা ফিরিঙ্গি সাহেব। তাঁর এই বহুরূপ ধারণ কেবল জীবিকার প্রয়োজনে নয়, বরং এক সৃজনশীল নেশার মতো। এই প্রেক্ষাপটে গল্পের নামকরণটি প্রথমেই হরিদার পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হয়।
গল্পের কেন্দ্রীয় ঘটনাটি আবর্তিত হয়েছে হরিদার এক অভাবনীয় ছদ্মবেশকে কেন্দ্র করে। জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত এক উঁচু দরের সন্ন্যাসীর গল্প শোনার পর হরিদার শিল্পীমন যেন এক নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। তিনি তাঁর বন্ধুদের বলেছিলেন যে এবার তিনি এমন এক কাণ্ড করবেন যাতে তাঁর সারাজীবনের অন্নের সংস্থান হয়ে যাবে। বন্ধুরা ভেবেছিলেন হরিদা হয়তো সাধারণ কোনো ছদ্মবেশে জগদীশবাবুকে তুষ্ট করবেন। কিন্তু গল্পের মূল মোচড় আসে যখন হরিদা 'বিরাগী' সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হন। তাঁর সেই সাজ এবং আচরণ এতটাই নিখুঁত ছিল যে স্বয়ং জগদীশবাবু এবং হরিদার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও তাঁকে চিনতে ব্যর্থ হন। জটাজুটধারী কোনো জাঁকজমকপূর্ণ সন্ন্যাসী না সেজে তিনি একজন শান্ত, সৌম্য এবং মোহমুক্ত বিরাগী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। এই বিরাগী রূপটিই গল্পের নামকরণের সার্থকতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বিরাগী হিসেবে হরিদা যখন জগদীশবাবুর বাড়িতে যান, তখন তাঁর ব্যক্তিত্বে এক অতীন্দ্রিয় জ্যোতি ফুটে ওঠে। জগদীশবাবু ছিলেন ধনবান কিন্তু কিছুটা অহংকারী ব্যক্তি। বিরাগী হরিদা তাঁর সেই দর্প চূর্ণ করেন অত্যন্ত সহজ ভাষায়। বিরাগীর মুখে "পরম সুখ কাকে বলে জানেন? সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া!"—এই ধরনের দার্শনিক বাণী শুনে জগদীশবাবু অভিভূত হয়ে পড়েন। তিনি বিরাগীকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান। একজন অতি দরিদ্র মানুষের কাছে সেই সময়ে একশো এক টাকা ছিল এক বিপুল সম্পত্তি, যা দিয়ে তাঁর জীবনের অভাব চিরতরে মুছে যেতে পারত। কিন্তু এখানেই হরিদা তাঁর বহুরূপী সত্তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। তিনি অবলীলায় সেই টাকা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ধুলোর মতো সোনাকেও তুচ্ছ করে বিদায় নেন।
গল্পের শেষে যখন বন্ধুরা হরিদাকে তাঁর এই ত্যাগের কারণ জিজ্ঞাসা করেন, তখন হরিদার উত্তর ছিল অত্যন্ত গভীর। তিনি বলেন, "শত হোক, একজন বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা-ফাকা কী করে স্পর্শ করি বল? তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।" এই একটি বাক্যের মধ্যেই 'বহুরূপী' নামকরণের সার্থকতা নিহিত। হরিদার কাছে 'বহুরূপী' কেবল জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি একটি শিল্প। একজন শিল্পী যখন কোনো চরিত্র ধারণ করেন, তখন সেই চরিত্রের সত্যতা রক্ষা করাই তাঁর প্রধান ধর্ম হয়ে দাঁড়ায়। হরিদা জানতেন যে টাকাটা নিলে তাঁর দারিদ্র্য ঘুচত ঠিকই, কিন্তু তাঁর শিল্পীসত্তা পরাজিত হতো। বিরাগী চরিত্রের পবিত্রতা ও মোহহীনতা রক্ষা করার জন্যই তিনি টাকার মায়া ত্যাগ করেন। অর্থাৎ, তিনি কেবল বাইরে থেকে রূপ পাল্টান না, অন্তরেও সেই চরিত্রের আদর্শকে ধারণ করেন।
গল্পের নামকরণটি 'হরিদা' না হয়ে 'বহুরূপী' হওয়ার পেছনে আরও একটি কারণ থাকতে পারে। হরিদা আসলে আমাদের সমাজের সেইসব শিল্পীদের প্রতিনিধি, যাঁরা অভাবের সঙ্গে লড়াই করেও নিজেদের শিল্পের আদর্শে অটল থাকেন। গল্পের শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, হরিদা আবার তাঁর সাধারণ জীবনে ফিরে এসেছেন এবং জগদীশবাবুর কাছে গিয়ে সামান্য বকশিশ চাওয়ার কথা ভাবছেন। এই বৈপরীত্যই গল্পের ট্র্যাজেডি। একাধারে তিনি বিরাগী সেজে লক্ষাধিক টাকার সম্পত্তি তুচ্ছ করছেন, আবার পরক্ষণেই অভাবের তাড়নায় আট আনা বা দশ আনা বকশিশের আশা করছেন। এই যে বহুরূপী জীবনের নাটকীয়তা এবং বৈচিত্র্য, তাই এই গল্পের মূল উপজীব্য।
উপসংহারে বলা যায়, সুবোধ ঘোষ 'বহুরূপী' শব্দটির মাধ্যমে কেবল একজনের পরিচয় দেননি, বরং মানুষের অন্তরের ঐশ্বর্য এবং শিল্পের নৈতিক জয়ের কথা বলেছেন। হরিদা নামের সাধারণ মানুষটি তাঁর অসাধারণ বহুরূপী সত্তার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে পেটের খিদের চেয়েও শিল্পের মর্যাদা অনেক বড়। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হরিদার বিভিন্ন রূপ এবং তাঁর বিরাগী চরিত্রের চরম উৎকর্ষতা গল্পের ঘটনাপ্রবাহকে সার্থকভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে। নামকরণের মাধ্যমে লেখক সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, একজন বহুরূপী কেবল ছদ্মবেশ ধারণ করেন না, তিনি সেই চরিত্রের জীবনকেও মুহূর্তের জন্য যাপন করেন। তাই বিষয়বস্তু, চরিত্রচিত্রণ এবং শিল্পের নৈতিকতার বিচারে 'বহুরূপী' নামকরণটি সর্বাংশে সার্থক ও সার্থকতা লাভ করেছে।
পরীক্ষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি:
১. "হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে"— হরিদার জীবনের এই নাটকীয় বৈচিত্র্যটি গল্পের আলোকে আলোচনা করো।
২. "খুবই গরিব মানুষ হরিদা"— হরিদার দারিদ্র্যের বর্ণনা দাও। এই দারিদ্র্য সত্ত্বেও তাঁর চরিত্রের কোন বিশেষ দিকটি তোমাকে আকর্ষণ করে?
৩. হরিদার জীবনযাপনের ধরণ কেমন ছিল? কেন তিনি ধরাবাঁধা চাকুরির কাজ পছন্দ করতেন না?
৪. "হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না"— এই অভাবের মধ্যেও হরিদার শিল্পীসত্তা কীভাবে বেঁচে ছিল?
৫. বহুরূপী কাকে বলে? পেশাদার বহুরূপী হিসেবে হরিদার দক্ষতার পরিচয় দাও।
৬. চকের বাস স্ট্যান্ডে পাগল সেজে হরিদা যে কাণ্ড করেছিলেন, তার বর্ণনা দাও।
৭. বাইজি সেজে হরিদার উপার্জনের কাহিনীটি সংক্ষেপে লেখো। ওইদিন তাঁর রোজগার কেমন হয়েছিল?
৮. দয়ালবাবুর লিচু বাগানে হরিদা কীভাবে পুলিশ সেজেছিলেন? মাস্টারমশাই কেন হরিদাকে প্রশংসা করেছিলেন?
৯. বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে হরিদা যখন জগদীশবাবুর বাড়িতে যান, তখন তাঁর রূপ ও পোশাকের বর্ণনা দাও।
১০. "আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়?"— বক্তা কে? তিনি কেন জগদীশবাবুকে এই কথা বলেছিলেন?
১১. বিরাগী হরিদার মুখে পরম সুখের যে সংজ্ঞা শোনা গিয়েছিল, তা সংক্ষেপে লেখো।
১২. "সাতদিন হলো এক সন্ন্যাসী এসে জগদীশবাবুর বাড়িতে ছিলেন"— সেই সন্ন্যাসীর পরিচয় দাও। তাঁর বিদায়কালীন ঘটনাটি কী ছিল?
১৩. "অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না"— হরিদার 'ভুল' কোনটি ছিল? কেন একে ভুল বলা হয়েছে?
১৪. "তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়"— এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে হরিদার চরিত্রের কোন সত্যটি ফুটে উঠেছে?
১৫. "মারি তো হাতি, লুঠি তো ভাণ্ডার"— হরিদার এই সংকল্পের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল?
১৬. জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা হরিদা কেন অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করলেন?
১৭. "খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?"— এই আক্ষেপের মধ্য দিয়ে শিল্পীর জীবনের কোন ট্র্যাজেডি ধরা পড়েছে?
১৮. 'বহুরূপী' গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।
১৯. "গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা"— কোন গল্পের কথা বলা হয়েছে? গম্ভীর হয়ে হরিদা কী পরিকল্পনা করেছিলেন?
২০. জগদীশবাবুর চরিত্রটি গল্পে কীভাবে ফুটে উঠেছে? বিরাগী হরিদার সামনে তাঁর আচরণ কেমন ছিল?
২১. "বড় চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা"— সন্ধ্যার স্নিগ্ধতার সঙ্গে বিরাগী হরিদার আগমনের সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করো।
২২. "আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনি অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি"— উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
২৩. হরিদার ঘরের আড্ডায় যে চারজন বন্ধু আসতেন, তাঁদের সঙ্গে হরিদার সম্পর্কের পরিচয় দাও।
২৪. বিরাগী সেজে হরিদা জগদীশবাবুকে কী কী উপদেশ দিয়েছিলেন?
২৫. গল্পের শেষ দৃশ্যে হরিদার যে লজ্জিত হাসির কথা আছে, তা কেন পাঠকের মনকে স্পর্শ করে?
২৬. সমাজের অবহেলিত শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে 'হরিদা' চরিত্রটির গুরুত্ব আলোচনা করো।
২৭. ছোটগল্প হিসেবে 'বহুরূপী' কতখানি সার্থক তা বুঝিয়ে দাও।
২৮. "সে কি সত্যিই হরিদা?"— বন্ধুদের এই বিস্ময়ের কারণ কী ছিল?
২৯. হরিদার বিভিন্ন রূপের মধ্যে 'বিরাগী' রূপটি কেন শ্রেষ্ঠ? তোমার মতামত দাও।
৩০. "বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার!"— কোন বিষয়টিকে হরিদা 'মজার ব্যাপার' বলেছিলেন এবং কেন?
0 comments:
Post a Comment