উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩

 

 

উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩

অনধিক ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও। (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫)

 

গল্প

মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির অবস্থা শোচনীয়

দরদের চেয়ে ছোঁয়াচে কিছুই নেই এ জগতে

ওটা পাশবিক স্বার্থপরতা

সেদিন আপিস যাওয়ার পথে প্রথম মৃত্যু দেখল

নিখিল ভেবেছিল বন্ধুকে বুঝিয়ে বলবে

দিন দিন কেমন হয়ে যেতে লাগল মৃত্যঞ্জয়

ভুরিভোজটা অন্যায়, না খেতে পেয়ে মরাটা উচিত নয় ভাই

এ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত কী

 

কবিতা

‘রূপনারানের কূলে’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ জীবন সায়াহ্নে উপনীত হয়ে যা উপলব্ধি করেছেন, তা সংক্ষেপে লেখো।

“রূপনারানের কূলে জেগে উঠিলাম” -কবির এই জেগে ওঠার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

“মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।” বক্তা কে? মৃত্যুতে সকল দেনা বলতে কী বোঝানো হয়েছে? সে দেনা কীভাবে শোধ করতে চেয়েছিলেন কবি ?

সে কখনও করেনা বঞ্চনা- কে বঞ্চনা করে না? তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

 

নাটক

“এবার নিশ্চয়ই লোকের খুব হাসি পাবে”কে, কখন একথা বলেছে? এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তা কী বোঝাতে চেয়েছেন?

“আমাদের দিন ফুরিয়েছে” -কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছেন? বক্তার এই উপলব্ধির কারণ ব্যাখ্যা করো।

‘বিভাব’ নাটকটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

মারাঠি তামাশায় দেখেছিলাম

অভাবের চিত্র বিভাব নাটকে কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?

এমনি সময় হটাত এক সাহেবের কথা পড়লাম”কোন সময়? কোন সাহেব? কী পড়েছিল?

 

আন্তর্জাতিক সাহিত্য

“চোখের জলটা তাদের জন্য” -কাদের জন্য চোখের জল ? কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চোখে জল এসেছিল?

“সেই সন্ধ্যায় কোথায় গেল রাজমিস্ত্রিরা?” -রাজমিস্ত্রিরা কী নির্মাণ করেছিল? এই প্রশ্নের মাধ্যমে বক্তা কী বলতে চেয়েছেন?

“গুরু নানকের হাতের ছাপ আজও লেগে রয়েছে।” -গুরু নানকের হাতের ছাপ কোথায় লেগে রয়েছে? এই প্রসঙ্গে বর্ণিত ঘটনাটি উল্লেখ করো।

“গড়িয়া পড়া পাথর কীভাবে থামবে?”-পাথর গড়িয়ে পড়েছিল কেন? পাথর গড়ানোর দৃশ্য কে দেখেছিল? পাথর থামানোয় কী ঘটেছিল ?

“গল্পটা আমাদের স্কুলে শোনানো হলো”-গল্পটা কী? স্কুলে গল্পটা শুনে লেখকের প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

 

ভাষাবিজ্ঞান

শব্দার্থ ধারা

উপাদানমূলক

থিসরাস

বাক্য গঠন

প্রত্যয়

রূপমূল

ধবনিমূল সহধবনি

গুচ্ছ ও যুক্ত ধ্বনি

 

শিল্প সাহিত্যের ইতিহাস

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর/যামিনী রায়/পট/ রামকিংকর বেইজ

জগদীশ চন্দ্র বসু/মেঘনাদ সাহা/কাদম্বিনী/সত্যেন্দ্রনাথ বসু

অতুলপ্রসাদ সেন/মান্না দে/বাউল গান

বাংলা চলচ্চিত্র ধারায় সত্যজিৎ রায়/মৃণাল সেন/ম্যাডান থিয়েটার

 

 

একেবারে পিছিয়ে থাকা ছেলেমেয়েদের জন্যে নূন্যতম একটা প্রশ্ন ছক দেওয়ার চেষ্টা করলাম। আশাকরি উপকৃত হবে।

দুটি জিনিস follow করলে অনায়াসেই ভালো নম্বর পেতে পারো।

১। টেক্সট খুব ভালো করে পড়ো; ২। গল্পগুলোকে মাথায় রাখার চেষ্টা করো; ৩। শর্ট প্রশ্নে ১০০% সফল হতে হবে ভেবেই পড়ো। প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারো।

সকল ছাত্র ছাত্রীকে জানাই আমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

-প্রনয় স্যার

 

 

  

মঙ্গলকাব্য

মঙ্গল কাব্য

মঙ্গলকাব্যঃ আনুমানিক খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি ভারতচন্দ্রের কাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে যে ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য রচিত হয়েছিল তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত। ‘বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস’-এর লেখক ডঃ আশুতোষ ভট্টাচার্য মঙ্গলকাব্য সম্পর্কে বলেছেন, “আনুমানিক খ্ৰীষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দী হইতে আরম্ভ করিয়া অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি ভারতচন্দ্রের কাল পর্যন্ত বঙ্গসাহিত্যে যে বিশেষ এক শ্রেণীর ধর্মবিষয়ক আখ্যানকাব্য প্রচলিত ছিল, তাহাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত”।

মঙ্গলকাব্যের গঠনঃ মঙ্গলকাব্য সাধারণত আটদিনে গাওয়া হয়; প্রত্যেক দিনের জন্য দিবাপালা এবং রাত্রি পালায় কাহিনি বিভক্ত হত। অর্থাৎ ষোলটি পালায় সমগ্র কাহিনির ভাগ করা হতো মঙ্গলকাব্যের সাধারণ রীতি। তবে আটদিনের এই বিভাগে গায়েনের সুবিধা অনুযায়ী মঙ্গল কাব্যের কাহিনি বিভাজন হতো। দিবা দ্বিপ্রহরের পর থেকে গান আরম্ভ করে সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত চলত তারপর সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর আবার রাত্রি পালা আরম্ভ হতো এবং তা প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলত। মনসামঙ্গল প্রতিদিন এক পালা করে গাওয়া হতো এবং এক মাসের উপযোগী একেকটি সুদীর্ঘ পালার ত্রিশ পালায় বিভক্ত থাকতো। তবে সমস্ত মঙ্গলকাব্যেরই গান শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী রাত্রির পালাকে ‘জাগরণ পালা’ বলা হয়। কারণ সেদিন সমস্ত রাত্রি জেগে গান হতো, পরদিন দিবা পালায় ‘ফলশ্রুতি’ শোনার পর গান শেষ হয়ে যেত।

মঙ্গলকাব্যের বৈশিষ্ট্যঃ

·         মঙ্গলকাব্যের একটি প্রধান উদ্দেশ্য দেবদেবীদের মাহাত্ম্য প্রচার করা।

·         মঙ্গল কাব্য দেবখন্ড ও নরখণ্ডে বিভক্ত।

·         মঙ্গলকাব্য তথা মধ্যযুগের কাব্যের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল নায়িকার বারোমাস্যার বর্ণনা।

·         প্রহেলিকা বা ধাঁধাঁ, প্রবাদ-প্রবচন, লোকবিশ্বাস, লোকশ্রুতি প্রভৃতি মঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

মঙ্গল কাব্যের ছন্দঃ লৌকিক ছন্দ বা ছড়ার ছন্দের পাশাপাশি মঙ্গলকাব্যে ব্যাপকভাবে অক্ষরবৃত্ত পয়ার ছন্দই প্রধানত ব্যবহৃত হয়েছে। যে পয়ার ছন্দ মঙ্গলকাব্যে ব্যবহৃত হয়েছে তাকে লঘু বা দ্বিপদী পয়ার বলে উল্লেখ করা যায়। প্রতিটি পদ আট এবং ছয় মাত্রায় বিভক্ত। পয়ার বা পাঁচালী ছন্দের পর মঙ্গলকাব্যে আর যে সকল ছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে তাদের মধ্যে ত্রিপদী ছন্দ অন্যতম। অনেক সময় ত্রিপদী ছন্দকে মঙ্গলকাব্যের কবিগন লাচাড়ী বলে উল্লেখ করেছেন।

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শাখা হল মঙ্গলকাব্য। বিভিন্ন দেবদেবীকে নিয়ে মঙ্গলকাব্য রচিত হলেও বাংলা মঙ্গলকাব্যের প্রধান ধারা তিনটি - ১) মনসামঙ্গল, ২) চণ্ডীমঙ্গল, ৩) ধর্মমঙ্গল

বিষয়গত দিক দিয়ে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। ১। পৌরাণিক মঙ্গলকাব্য ২। লৌকিক মঙ্গলকাব্য।

পৌরাণিক মঙ্গলকাব্য: গৌরী মঙ্গল, ভবানী মঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, কমলা মঙ্গল, গঙ্গা মঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ইত্যাদি।

লৌকিক মঙ্গলকাব্য: শিবায়ন বা শিবমঙ্গল মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, কালিকামঙ্গল বা বিদ্যাসুন্দর, শীতলা মঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠী মঙ্গল, সারদামঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।