Showing posts with label বাগধারার উদাহরণ. Show all posts
Showing posts with label বাগধারার উদাহরণ. Show all posts

বাংলা বাগধারা ও বাক্যে প্রয়োগ

বাগধারার সংজ্ঞা

'বাগধারা' শব্দটির অর্থ হলো কথার ধারা বা বলার বিশেষ ঢং।

অভিধানগত বা সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে যখন কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বিশেষ কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বাগধারা বলে। অর্থাৎ, যখন কোনো শব্দসমষ্টি তার সাধারণ অর্থ (বাচ্যার্থ) বর্জন করে একটি বিশিষ্ট ও গভীর অর্থ (লক্ষ্যার্থ) প্রকাশ করে, তখন সেই পদের সমষ্টিকে বাগধারা বলা হয়।

উদাহরণ: 'আকাশ কুসুম' শব্দটির সাধারণ অর্থ আকাশের ফুল। কিন্তু বাগধারা হিসেবে এর বিশেষ অর্থ হলো 'অসম্ভব কল্পনা'। একইভাবে 'বিড়াল তপস্বী' বলতে কোনো বিড়ালের সাধনাকে বোঝায় না, এর প্রকৃত অর্থ হলো 'ভণ্ড সাধু'।

 

বাগধারার বৈশিষ্ট্য

বাগধারার কিছু নিজস্ব এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে সাধারণ বাক্য বা শব্দগুচ্ছ থেকে আলাদা করে:

·         বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ: বাগধারা কখনো শব্দের আভিধানিক বা সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে না। এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি গভীর বা রূপক অর্থ প্রকাশ পায়।

·         গঠনগত অপরিবর্তনশীলতা: বাগধারাগুলো মূলত ভাষার দীর্ঘদিনের ব্যবহারের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তাই এর ভেতরের শব্দগুলো সাধারণত পরিবর্তন করা যায় না। যেমন: 'অগাধ জলের মাছ' (খুব চালাক)-এর পরিবর্তে 'প্রচুর জলের মাছ' লিখলে তা আর বাগধারা থাকবে না।

·         শব্দের স্থান পরিবর্তন অযোগ্য: বাগধারায় ব্যবহৃত শব্দগুলোর ক্রম বা স্থান পরিবর্তন করা যায় না। 'অরণ্যে রোদন' (বৃথা চেষ্টা)-কে উল্টে 'রোদনে অরণ্য' বলা যাবে না।

·         সংক্ষিপ্ত ও সুসংহত: বাগধারাগুলো সাধারণত খুব সংক্ষিপ্ত হয়, কিন্তু এর ভাব প্রকাশ করার ক্ষমতা থাকে ব্যাপক। অল্প কথায় এটি অনেক বড় একটি পরিস্থিতি বা চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে পারে।

·         ঐতিহ্যনির্ভরতা: অধিকাংশ বাগধারার পেছনে কোনো না কোনো সামাজিক ঘটনা, লোককাহিনী, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বা পৌরাণিক গল্প জড়িয়ে থাকে। যুগের পর যুগ মানুষের মুখে মুখে চলে এসে এগুলো ভাষায় স্থায়ী রূপ লাভ করেছে।

·         ভাষার সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য বৃদ্ধি: বাগধারা ব্যবহারের ফলে ভাষা আরো বেশি প্রাণবন্ত, তীক্ষ্ণ ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এটি সাধারণ বক্তব্যকে আরো রসালো বা গুরুগম্ভীর করে তুলতে সাহায্য করে।



 বাংলা বাগধারার দৃষ্টান্ত

 ১. অগাধ জলের মাছ (খুব চালাক ব্যক্তি) : রিয়াজকে যতটা সহজ ভাবছ সে আসলে তা নয়, সে হলো অগাধ জলের মাছ

২. অর্ধচন্দ্র (গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া) : চোরটাকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে দারোয়ান বাবু অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করলেন।

৩. অগ্নিশর্মা (ভীষণ ক্রুদ্ধ) : পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করায় বাবা ছেলের ওপর একেবারে অগ্নিশর্মা হয়ে আছেন।

৪. অগ্নিপরীক্ষা (কঠিন পরীক্ষা) : চাকরিটা পাওয়ার জন্য এবার তাকে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

৫. অকূল পাথার (ভীষণ বিপদ) : হঠাৎ চাকরিটা চলে যাওয়ায় পুরো পরিবার নিয়ে তিনি এখন অকূল পাথারে পড়েছেন।

৬. অনধিকার চর্চা (সীমা লঙ্ঘন করা/যে বিষয়ে নিজের অধিকার নেই তাতে হস্তক্ষেপ) : বড়দের কথার মাঝে ছোটদের এমন অনধিকার চর্চা একদম মানায় না।

৭. অগাধ বিশ্বাস (গভীর আস্থা) : তোমার ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে, আমি জানি তুমি আমাকে হতাশ করবে না।

৮. অগ্নিমূল্য (অস্বাভাবিক চড়া দাম) : বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের এখন অগ্নিমূল্য, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন।

৯. অনুরোধে ঢেঁকি গেলা (অনুরোধে পড়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও কঠিন কাজ করা) : বন্ধুর অনুরোধে ঢেঁকি গেলার মতো এই লোকসান হওয়া ব্যবসায় আমাকে নামতে হলো।

১০. অন্ধের যষ্টি (একমাত্র অবলম্বন) : বৃদ্ধ মায়ের একমাত্র ছেলেটিই ছিল তাঁর অন্ধের যষ্টি, তাকে হারিয়ে মা আজ দিশেহারা।

১১. অগস্ত্য যাত্রা (চিরদিনের জন্য প্রস্থান/শেষ বিদায়) : কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই তিনি যে পরলোকে অগস্ত্য যাত্রা করবেন, তা কেউ ভাবেনি।

১২. অকূলের কূল (বিপদের আশ্রয়) : এই ঘোর বিপদে আপনি পাশে দাঁড়িয়ে আমার অকূলের কূল হলেন।

১৩. অমাবস্যার চাঁদ (দুর্লভ বস্তু) : বড় চাকরি পাওয়ার পর থেকে তুমি তো ভাই একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেলে, দেখাই পাওয়া যায় না।

১৪. অক্ষয় বট (প্রাচীন ও পরম আশ্রয়দাতা ব্যক্তি) : আমাদের যৌথ পরিবারে দাদু ছিলেন এক অক্ষয় বট, যার ছায়ায় সবাই সুখে ছিল।

১৫. অহিনকুল সম্বন্ধ (ভীষণ শত্রুতা) : সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে এখন যেন একেবারে অহিনকুল সম্বন্ধ তৈরি হয়েছে।

১৬. অর্ধেক রাজত্ব (বিশাল প্রাপ্তি) : লটারিতে অত টাকা পেয়ে করিমের মনে হচ্ছে সে যেন রূপকথার অর্ধেক রাজত্ব পেয়ে গেছে।

১৭. আদা জল খেয়ে লাগা (প্রাণপণ চেষ্টা করা) : পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার জন্য রোহন এবার আদা জল খেয়ে লেগেছে

১৮. আকাশে তোলা (অতিরিক্ত প্রশংসা করা) : সামান্য একটু ভালো কাজের জন্য ওকে এত আকাশে তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।

১৯. আকাশ পাতাল তফাত (প্রচুর ব্যবধান) : দুই ভাইয়ের চেহারায় মিল থাকলেও স্বভাব-চরিত্রে আকাশ পাতাল তফাত

২০. আঠারো মাসের বছর (দীর্ঘসূত্রতা/খুব অলস স্বভাব) : তোমার মতো আঠারো মাসের বছর যাদের, তারা কোনো কাজই সময়মতো শেষ করতে পারে না।

২১. আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ বড়লোক হওয়া) : ঘুষের টাকা খেয়ে রাতারাতি কেরানি বাবু যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেলেন।

২২. আকাশ থেকে পড়া (সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বা বিস্মিত হওয়া) : চুরির কথা জিজ্ঞেস করতেই সে এমন ভাব করল যেন আকাশ থেকে পড়ল।

২৩. আমতা আমতা করা (দ্বিধা প্রকাশ করা/দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়া) : সত্য কথাটা বলতে গিয়ে এমন আমতা আমতা করার কোনো দরকার নেই।

২৪. আলালের ঘরের দুলাল (অতি আদরে নষ্ট হওয়া ধনী ঘরের সন্তান) : বাপের অত টাকা পেয়ে ছেলেটি একেবারে আলালের ঘরের দুলাল হয়ে গেছে, খাটতে পারে না।

২৫. আস্তিনের সাপ (গোপন শত্রু) : যাকে এতকাল আশ্রয় দিলে, সেই যে তোমার আস্তিনের সাপ হয়ে ক্ষতি করবে তা কে জানত!

২৬. আকাশ ভেঙে পড়া (হঠাৎ ভীষণ বিপদে পড়া) : একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের মৃত্যুতে পরিবারটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।

২৭. আপন পায়ে কুড়াল মারা (নিজের ক্ষতি নিজে করা) : ভালো চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে তুমি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারলে।

২৮. আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি বা অবাস্তব কাহিনী) : তোমার এই আষাঢ়ে গল্প শোনার মতো সময় আমার নেই, আসল কথাটা বলো।

২৯. আট কপালে (হতভাগ্য) : আমার মতো আট কপালে লোক আর এই দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

৩০. ইঁদুর কপালে (নিতান্ত মন্দভাগ্য) : অল্পের জন্য সরকারি চাকরিটা হাতছাড়া হলো, আমার মতো ইঁদুর কপালের আর কী হবে!

৩১. ইতর বিশেষ (পার্থক্য/তারতম্য) : এই দুটি জামার কাপড়ের মধ্যে খুব একটা ইতর বিশেষ চোখে পড়ে না।

৩২. উত্তম মধ্যম (প্রহার করা/পিটুনি দেওয়া) : পকেটমারটিকে হাতেনাতে ধরে এলাকার লোকজন বেশ উত্তম মধ্যম দিল।

৩৩. উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী/বেহিসাবি খরচ করা ব্যক্তি) : এমন উড়নচণ্ডী স্বভাবের লোক থাকলে যত ব্যবসাই করো না কেন, লোকসান হবেই।

৩৪. উড়ো চিঠি (বেনামী পত্র) : মন্ত্রীমশাইয়ের দপ্তরে আজ একটি হুমকি দিয়ে উড়ো চিঠি এসেছে।

৩৫. উভয় সংকট (দুই দিকেই বিপদ) : সত্য বললে বন্ধু চটে, না বললে পুলিশ ধরে—আমি তো দেখছি চরম উভয় সংকটে পড়লাম।

৩৬. উলুখাগড়া (নগণ্য ব্যক্তি) : বড় বড় নেতাদের ঝগড়ায় আমাদের মতো উলুখাগড়াদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়।

৩৭. উলো বনে মুক্তো ছড়ানো (অপাত্রে মূল্যবান জিনিস দেওয়া) : মূর্খদের সামনে জ্ঞানের কথা বলা আর উলো বনে মুক্তো ছড়ানো একই কথা।

৩৮. ঊনপাঁজুরে (হতভাগ্য/দুর্বল) : ছেলেটা জন্ম থেকেই এমন ঊনপাঁজুরে যে, কোনো পরিশ্রমের কাজ করতে পারে না।

৩৯. একাদশে বৃহস্পতি (সৌভাগ্যের বিষয়/খুব ভালো সময়) : ব্যবসায় এই মাসে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে, তোমার তো এখন একাদশে বৃহস্পতি চলছে।

৪০. এক চোখা (পক্ষপাতদুষ্ট) : এমন এক চোখা বিচারকের কাছ থেকে কখনোই সঠিক বিচার আশা করা যায় না।

৪১. এলোপাতাড়ি (বিশৃঙ্খলা/এলোমেলো) : ঝড়ের মধ্যে ছাতাটা নিয়ে সে এলোপাতাড়ি ছুটতে শুরু করল।

৪২. এক ক্ষুরে মাথা মুড়োনো (একই দলের বা স্বভাবের হওয়া) : ওদের দুজনের কারো ওপর ভরসা কোরো না, ওরা দুজনেই এক ক্ষুরে মাথা মুড়িয়েছে

৪৩. এঁড়ে গরুর গোঁ (ক্ষতিকর একগুঁয়েমি) : তোমার এই এঁড়ে গরুর গোঁয়ের কারণে আজ পুরো প্রজেক্টটাই ভেস্তে গেল।

৪৪. এক কাঠি বাজানো (একচেটিয়া আধিপত্য) : অফিসে ম্যানেজার বাবু একাই সব সিদ্ধান্ত নেন, তিনি যেন নিজের এক কাঠি বাজাচ্ছেন

৪৫. ওজন বুঝে চলা (নিজের মর্যাদা রক্ষা করে চলা) : সমাজে টিকে থাকতে হলে সবসময় নিজের ওজন বুঝে চলা উচিত।

৪৬. ওষুধে ধরা (আকাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া) : ডাক্তারের নতুন এই বড়িটা খাওয়ার পর অবশেষে রোগীর শরীরে ওষুধে ধরেছে

৪৭. কচ্ছপের কামড় (যা সহজে ছাড়ে না) : পাওনাদাররা টাকার জন্য যে কচ্ছপের কামড় ধরেছে, তা থেকে মুক্তি পাওয়া মুশকিল।

৪৮. কলুর বলদ (অবিরাম খাটুনি খাটে যে/পরাধীন ব্যক্তি) : সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসারের জন্য খাটি, আমি যেন এই বাড়ির কলুর বলদ

৪৯. কটকটি কামড় (তীব্র জেদ বা ঝগড়াটে স্বভাব) : তার মতো কটকটি কামড় স্বভাবের মানুষের সাথে এক বাড়িতে থাকা অসম্ভব।

৫০. কথার কথা (গুরুত্বহীন কথা) : আমি রাগ করে ওটা বলেছিলাম, ওটা শুধুই একটা কথার কথা ছিল, সিরিয়াসলি নিয়ো না।

৫১. কপাল ফেরা (ভাগ্যের উন্নতি হওয়া) : নতুন ব্যবসাটা শুরু করার পর থেকেই রহিমের কপাল ফিরেছে

৫২. কপালে আগুন (হতভাগ্য) : যার বিয়ের রাতেই বর পালিয়ে যায়, তার মতো কপালে আগুন আর কার হতে পারে!

৫৩. কানা কড়ি (মূল্যহীন বস্তু) : পকেটে একটা কানা কড়িও নেই, অথচ বাবু বড় বড় শপিং মলে ঘোরার স্বপ্ন দেখছেন।

৫৪. কান পাতলা (যে সহজেই অন্যের কথা বিশ্বাস করে) : অফিসের বস খুব কান পাতলা মানুষ, কেউ একটু নামে দুর্নাম করলেই চটে যান।

৫৫. কান ভাঙানো (কুপরামর্শ দেওয়া/কারো বিরুদ্ধে গোপনে বলা) : শাশুড়ির বিরুদ্ধে বৌমার কান ভাঙানোর লোকের অভাব নেই এ পাড়ায়।

৫৬. কাগজে বাঘ (মিথ্যে বা নামমাত্র বীর) : মুখে যতই বড় বড় কথা বলুক না কেন, বিপদের সময় বোঝা যায় সে একটা কাগজে বাঘ

৫৭. কাঠের পুতুল (নির্জীব বা নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি) : সভায় সবাই নিজের মতামত দিল, আর তুমি সেখানে কাঠের পুতুলের মতো বসে রইলে।

৫৮. কাষ্ঠ হাসি (শুকনো বা কৃত্রিম হাসি) : মনের ভেতর এত ক্ষোভ রেখে বাইরে এমন কাষ্ঠ হাসি হাসা শুধু তোমার পক্ষেই সম্ভব।

৫৯. কাকভূষণ্ডী (দীর্ঘজীবী ব্যক্তি) : আমাদের গ্রামের ওই বৃদ্ধ দাদামশাই যেন এক কাকভূষণ্ডী, কত কালের ইতিহাস যে ওনার জানা!

৬০. কুনো বিড়াল (গৃহকোণপ্রিয়/লজ্জাশীল ব্যক্তি) : সবসময় ঘরের কোণে বসে না থেকে বাইরের দুনিয়াটাও একটু দেখো, কুনো বিড়াল হয়ে থেকো না।

৬১. কুঁড়ের বাদশা (ভীষণ অলস ব্যক্তি) : দুপুর বারোটা বেজে গেল অথচ এখনো ঘুমাচ্ছে, ছেলেটা একটা কুঁড়ের বাদশা

৬২. কেঁচো খুঁড়তে সাপ (সামান্য ঘটনা থেকে বিরাট রহস্য বের হওয়া) : একটা সাধারণ চুরির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এখন আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সন্ধান পেয়েছে, একেই বলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ

৬৩. কেতা দুরস্ত (পরিপাটি বা ফ্যাশনেবল) : পোশাক-আশাকে ছেলেটি বেশ কেতা দুরস্ত, কিন্তু কাজের বেলায় একদম শূন্য।

৬৪. কেউ কেটা (গণ্যমান্য ব্যক্তি) : সে নিজেকে মস্ত বড় কেউ কেটা মনে করে, কিন্তু আসলে তাকে কেউ চেনেও না।

৬৫. কৈ মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না/খুব শক্ত প্রাণ) : অত বড় অ্যাক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে ফিরল! লোকটার দেখছি কৈ মাছের প্রাণ

৬৬. খয়ের খাঁ (চাটুকার বা তোষামোদকারী) : অফিসের বসের চারপাশে কিছু খয়ের খাঁ সবসময় ঘুরে বেড়ায় ফায়দা লোটার জন্য।

৬৭. খন্ড প্রলয় (ভীষণ কাণ্ড বা তুমুল ঝগড়া) : তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে দুই পাড়ার ছেলেদের মধ্যে যেন খন্ড প্রলয় ঘটে গেল।

৬৮. খাল কেটে কুমির আনা (নিজের ভুলে বিপদ ডেকে আনা) : দুষ্টু ছেলেটাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে তুমি নিজেই খাল কেটে কুমির আনলে

৬৯. গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ) : নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করো, গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে না।

৭০. গদাই লস্করি চাল (অতি ধীর গতি) : ট্রেনের সময় হয়ে এলো আর তুমি এখনো গদাই লস্করি চালে হাঁটছ!

৭১. গভীর জলের মাছ (খুবই চতুর ও রহস্যময় ব্যক্তি) : সুমনকে যতটা সোজা ভাবছ সে তা নয়, সে আসলে বেশ গভীর জলের মাছ

৭২. গরজ বড় বালাই (প্রয়োজনের তাগিদ বড় জিনিস) : রোদের মধ্যে কেউ খাটতে চায় না, কিন্তু গরজ বড় বালাই তাই পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে।

৭৩. গাইয়ে গোবিন্দ (সহজ-সরল বা বোকা প্রকৃতির মানুষ) : সে একটা গাইয়ে গোবিন্দ টাইপের লোক, তাকে যে কেউ সহজে ঠকিয়ে দিতে পারে।

৭৪. গা ঢাকা দেওয়া (পালিয়ে যাওয়া/আত্মগোপন করা) : পুলিশ আসার খবর পেয়েই অপরাধীটি এলাকা থেকে গা ঢাকা দিল

৭৫. গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (কোনো দায়িত্ব না নিয়ে ঘুরে বেড়ানো) : সংসারের এত বড় অভাব, আর বড় ছেলেটা কোনো কাজ না করে গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়াচ্ছে

৭৬. গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা বা আসল কথা বলার আগের ভণিতা) : অত গৌরচন্দ্রিকা না করে সরাসরি বলো তোমার কত টাকা লাগবে।

৭৭. গোকুলের ষাঁড় (স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি) : বাপের পয়সায় ছেলেটি কোনো নিয়ম না মেনে পাড়ায় গোকুলের ষাঁড়ের মতো ঘুরে বেড়ায়।

৭৮. গোঁফ খেজুরে (নিতান্ত অলস) : এমন গোঁফ খেজুরে লোকের ভাগ্যে কোনোদিন উন্নতি জোটে না।

৭৯. গোবর গণেশ (মূর্খ ও জড়বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি) : ছেলেটাকে এত করে বোঝালাম, কিন্তু সে একটা গোবর গণেশ, কিছুই মাথায় ঢুকল না।

৮০. গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া/অধঃপতনে যাওয়া) : কুসঙ্গের পড়ে ভালো বাড়ির ছেলেটাও শেষ পর্যন্ত গোল্লায় গেল

৮১. ঘোড়েল লোক (খুবই সেয়ানা বা ধূর্ত মানুষ) : বিকাশ বাবু অত্যন্ত ঘোড়েল লোক, ওনার সাথে ব্যবসার চুক্তি করার আগে সাবধান থেকো।

৮২. ঘোড়ার ডিম (অবাস্তব বা অবাস্তব বস্তু) : সারাদিন এত পড়াশোনা করে পরীক্ষার খাতায় তুমি তো দেখছি ঘোড়ার ডিম লিখে এসেছ!

৮৩. ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত শখ) : নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তার আবার দামী গাড়ি কেনার ঘোড়া রোগ জেগেছে।

৮৪. ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া (বিপদ কেটে গিয়ে স্বস্তি পাওয়া) : হারানো সার্টিফিকেটগুলো খুঁজে পাওয়ার পর যেন আমার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল

৮৫. ঘিয়ের শ্রাদ্ধ (অপচয় করা) : এমন অযোগ্য লোকের পেছনে এত টাকা খরচ করা মানে ঘিয়ের শ্রাদ্ধ করা ছাড়া আর কিছু নয়।

৮৬. চোখের বালি (চক্ষুশূল/যাকে সহ্য করা যায় না) : সৎ মায়ের কাছে অনাথ মেয়েটি সবসময় যেন চোখের বালি হয়ে রইল।

৮৭. চোখের পর্দা (লজ্জা বা শরম) : মানুষটার চোখের পর্দা বলতে কিছু নেই, বড়দের সামনেও মুখে মুখে তর্ক করে।

৮৮. চোখ কপালে ওঠা (বিস্মিত বা অবাক হওয়া) : জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম দেখে সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠেছে

৮৯. চিনির বলদ (যে কেবল খাটে কিন্তু ফলের ভাগ পায় না) : এই অফিসের সব কঠিন কাজ আমিই করি, অথচ প্রমোশন পায় অন্যরা—আমি যেন এক চিনির বলদ

৯০. চুনোপুঁটি (নগণ্য বা সাধারণ মানুষ) : আসল অপরাধীরা আড়ালেই থেকে গেল, পুলিশ শুধু কয়েকজন চুনোপুঁটিকে গ্রেপ্তার করল।

৯১. চশমখোর (নির্লজ্জ ব্যক্তি) : এমন চশমখোর লোক আমি জীবনে দেখিনি, উপকার করার পরও পেছনে নিন্দা করে।

৯২. চালের বাটা (অত্যন্ত রূপসী নারী) : মেয়েটি দেখতে যেন একদম চালের বাটা লক্ষ্মী প্রতিমা।

৩. চোখ টাটানো (ঈর্ষা বা হিংসা করা) : আমার নতুন গাড়ি কেনা দেখে প্রতিবেশীদের যেন চোখ টাটাতে শুরু করেছে।

৯৪. চাঁদের হাট (প্রিয়জন বা গুণীজনদের মিলনমেলা) : ঈদের দিনে আমাদের বাড়িতে যেন এক চাঁদের হাট বসেছিল।

৯৫. ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধা (বৃথা চেষ্টা করা) : ভাঙা ব্যবসা জোড়া লাগানোর জন্য তোমার এই চেষ্টা আসলে ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধার মতোই ব্যর্থ।

৯৬. ছক্কা পাঞ্জা করা (বড় বড় কথা বলা বা চালবাজি করা) : বেশি ছক্কা পাঞ্জা কোরো না, তোমার আসল রূপ আমার ভালো করেই জানা আছে।

৯৭. ছাপোষা (অত্যন্ত গরিব বা সাধারণ মধ্যবিত্ত) : আমাদের মতো ছাপোষা মানুষের পক্ষে এত দামী ফ্ল্যাট কেনা অসম্ভব।

৯৮. ছেঁদো কথা (অসার বা ফালতু কথা) : কাজের কথা বাদ দিয়ে তোমার এমন ছেঁদো কথা শোনার মতো সময় আমার নেই।

৯৯. জিলিপির প্যাঁচ (কুটিলতা বা জটিল স্বভাব) : ওর মনের ভেতর যে এত জিলিপির প্যাঁচ আছে, তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।

১০০. জলের আলপনা (অস্থায়ী বস্তু) : মানুষের এই পার্থিব জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আসলে জলের আলপনার মতোই ক্ষণস্থায়ী।

১০১. ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগমতো কাজ করা) : ব্যবসায়ীটি বাজারে তেলের সংকট দেখেই ঝোপ বুঝে কোপ মেরে দাম বাড়িয়ে দিল।

১০২. ঝড়ো কাক (বিপর্যস্ত বা দুর্গত ব্যক্তি) : মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজে ছেলেটি একেবারে ঝড়ো কাকের মতো ঘরে ফিরল।

১০৩. ঝিকে মেরে বউকে বোঝানো (একজনকে দেখিয়ে অন্যজনকে সতর্ক করা) : ম্যানেজার বাবু ছোট কর্মচারীকে বকলেন বটে, কিন্তু আসলে তিনি ঝিকে মেরে বউকে বোঝালেন যাতে সবাই সোজা হয়ে চলে।

১০৪. টইটম্বুর (ভরপুর বা কানায় কানায় পূর্ণ) : বর্ষার জলে গ্রামের দিঘিটি এখন একেবারে টইটম্বুর হয়ে আছে।

১০৫. টুপভুজঙ্গ (নেশায় চূর বা অতিশয় মাতাল) : মদ গিলে সে এমন টুপভুজঙ্গ হয়ে ড্রেনে পড়ে আছে যে, তোলার লোক নেই।

১০৬. টেঁকে গোঁজা (আত্মসাৎ করা/পকেটে পোরা) : তহবিলের সব টাকা নিজের টেঁকে গুঁজে প্রধানবাবু এখন সাধু সাজছেন।

১০৭. টাকার গরম (অর্থের অহংকার) : ওনার সাথে বেশি কথা বলতে যেয়ো না, ইদানীং ওনার টাকার গরম বড্ড বেড়ে গেছে।

১০৮. টানাপোড়েন (অস্থিরতা বা উভয় সংকট) : সংসারে অভাব আর অশান্তির এই টানাপোড়েনে আমার জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠল।

১০৯. ঠোঁটকাটা (বেহায়া/স্পষ্টভাষী) : রমিজ অত্যন্ত ঠোঁটকাটা মানুষ, কাউকেই তোয়াক্কা না করে সত্য কথাটা মুখে বলে দেয়।

১১০. ঠুঁটো জগন্নাথ (অক্ষম বা অকেজো ব্যক্তি) : কমিটিতে ওনাকে সভাপতি করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওনার কোনো ক্ষমতা নেই—তিনি আসলে এক ঠুঁটো জগন্নাথ।

১১১. ঠক বাছতে গাঁ উজাড় (খারাপের সংখ্যা এত বেশি যে ভালো খোঁজাই মুশকিল) : এই অফিসের চোর অফিসারদের তালিকা করতে গেলে তো দেখছি ঠক বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে।

১১২. ঠাণ্ডা লড়াই (মুখোমুখি যুদ্ধ না করে মানসিক দ্বন্দ্ব) : দুই জা-এর মধ্যে মুখে কোনো ঝগড়া নেই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তীব্র ঠাণ্ডা লড়াই চলছে।

১১৩. ডুমুরের ফুল (অদৃশ্য বা দুর্লভ বস্তু) : চাকরি পাওয়ার পর তুমি তো ভাই একেবারে ডুমুরের ফুল হয়ে গেলে, দেখাই পাওয়া যায় না!

১১৪. ডানপিটে (অত্যন্ত দুরন্ত) : পাড়ার ওই ডানপিটে ছেলেটাকে সামলানো ওনার একার পক্ষে সম্ভব নয়।

১১৫. ডাকাবুকো (ভীষণ সাহসী/অকুতোভয়) : সে অত্যন্ত ডাকাবুকো ছেলে, মাঝরাতেও শ্মশানের পাশ দিয়ে একা হেঁটে চলে যেতে পারে।

১১৬. ডুমুর চড়ানো (আয়ত্তে আনা বা শাসন করা) : ওমন অবাধ্য ছেলেকে কীভাবে ডুমুর চড়াতে হয়, তা আমার ভালো করেই জানা আছে।

১১৭. ঢাক ঢাক গুড় গুড় (গোপন করার চেষ্টা) : যা বলার সবার সামনে সরাসরি বলো, এই ঢাক ঢাক গুড় গুড় করার কোনো প্রয়োজন নেই।

১১৮. ঢেঁকি অবতার (মূর্খ বা নির্বোধ ব্যক্তি) : এই ঢেঁকি অবতারকে দিয়ে কোনো জরুরি কাজ হবে না, অন্য কাউকে দায়িত্ব দাও।

১১৯. ঢেঁকির স্বর্গবাস (যে যেখানেই যাক খাটুনি তার পিছু ছাড়ে না) : আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের আর আরাম কোথায়, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।

১২০. ঢিল মারলে পাটকেলটি খেতে হয় (যেমন কর্ম তেমন ফল/আঘাতের পাল্টা আঘাত) : তুমি যদি অন্যের নামে অপবাদ দাও, তবে মনে রেখো ঢিল মারলে পাটকেলটি খেতে হয়।

​​১২১. তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী বা সহজে ভেঙে পড়ে যা) : অসৎ উপায়ে গড়া তাদের ওই বিশাল সাম্রাজ্য আজ পুলিশের একটা তল্লাশিতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল।

১২২. তিলকে তাল করা (ছোট ঘটনাকে বড় করে দেখা) : সামান্য একটা কথা নিয়ে প্রতিবেশীরা কেন যে তিলকে তাল করছে আমি বুঝতে পারছি না।

১২৩. তীর্থের কাক (আগ্রহী বা ব্যাকুল প্রতিক্ষাকারী) : ফলাফলের আশায় পরীক্ষার্থীরা সকাল থেকেই ইন্টারনেটের সামনে তীর্থের কাকের মতো বসে আছে।

১২৪. তামার বিষ (অর্থের কুপ্রভাব) : হঠাৎ লটারির টাকা পেয়ে রনি বন্ধুদের চিনতেই পারছে না, একেই বলে তামার বিষ।

১২৫. তালকানা (বেতাল বা বেহিসাবি ব্যক্তি) : এমন তালকানা লোককে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দিলে হিসেব মিলবে না কোনোদিন।

১২৬. তুষের আগুন (অন্তর দাহ/দীর্ঘস্থায়ী ও সুপ্ত কষ্ট) : একমাত্র মেয়ের অকাল মৃত্যুর শোক মায়ের বুকে তুষের আগুনের মতো দিনরাত জ্বলছে।

১২৭. তেল মাথায় তেল দেওয়া (যার আছে তাকে আরও দেওয়া/চাটুকারিতা) : বড়লোকদের উপহার দিয়ে লাভ কী, ওটা তো শুধু তেল মাথায় তেল দেওয়া।

১২৮. তৈলাধার পাত্র না পাত্রাধার তৈল (অহেতুক চুলচেরা বিচার) : কাজের কাজ কিছু না করে তোমরা শুধু তৈলাধার পাত্র না পাত্রাধার তৈল—এই তর্কেই সময় নষ্ট করছ।

১২৯. থই না পাওয়া (কূল-কিনারা না পাওয়া/বিপদে দিশেহারা হওয়া) : ব্যবসার এই বিশাল লোকসানের ধাক্কায় আমি আর কোনো থই পাচ্ছি না।

১৩০. থ বনে যাওয়া (স্তম্ভিত বা অবাক হওয়া) : হঠাৎ পুলিশের গাড়ি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতে দেখেই বাড়ির সবাই থ বনে গেল।

১৩১. দা-কুমড়ো সম্বন্ধ (ভীষণ শত্রুতা) : সম্পত্তি নিয়ে দুই শরিকের মধ্যে এখন একেবারে দা-কুমড়ো সম্বন্ধ তৈরি হয়েছে।

১৩২. দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু) : টাকা থাকলে দুধের মাছির অভাব হয় না, কিন্তু বিপদে কাউকে পাশে পাওয়া যায় না।

১৩৩. দিনকে রাত করা (মিথ্যেকে সত্য বলে চালানো) : উকিল বাবু টাকার জোরে আদালতের সামনে এমন দিনকে রাত করে দিলেন যে অপরাধী খালাস পেয়ে গেল।

১৩৪. দু নৌকায় পা দেওয়া (দুই পক্ষে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা) : রাজনীতিতে এভাবে দু নৌকায় পা দিয়ে চললে কোনো পক্ষই তোমাকে বিশ্বাস করবে না।

১৩৫. দুমুখো সাপ (যে দুই পক্ষেই কথা বলে কলহ বাধায়) : রতন একটা দুমুখো সাপ, ও আমাদের কথা ওখানে আর ওখানকার কথা এখানে লাগিয়ে বেড়ায়।

১৩৬. দহরম-মহরম (ঘনিষ্ঠতা বা খুব মাখামাখি) : আজকাল চোর আর পুলিশের মধ্যে এমন দহরম-মহরম দেখলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়!

১৩৭. দক্ষিণ হস্তের ব্যাপার (ভোজন বা খাওয়া-দাওয়া) : অনেক গল্প তো হলো, এবার একটু দক্ষিণ হস্তের ব্যাপারটা সেরে নেওয়া যাক, বড্ড খিদে পেয়েছে।

১৩৮. আদালতের ষাঁড় (যে আইন বা নিয়ম মানে না) : সরকারি ক্ষমতার দাপটে ছেলেটি এলাকায় আদালতের ষাঁড়ের মতো যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে।

১৩৯. দাঁত নখ বার করা (আসল হিংস্র রূপ প্রকাশ করা) : এতকাল ভদ্র সেজে থাকলেও শেষ পর্যন্ত টাকার লোভে সে নিজের দাঁত নখ বার করে ফেলল।

১৪০. দিবানিদ্রা (দিনের বেলার ঘুম) : এই ভর দুপুরে মস্ত বড় এক দিবানিদ্রা দিয়ে উঠে শরীরটা আজ বেশ ঝরঝরে লাগছে।

১৪১. ধরি মাছ না ছুঁই পানি (কৌশলে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে কাজ উদ্ধার) : বিবাদে জড়িয়েও সুমিত এমন ভাব করল যেন সে কিছুই জানে না, একেই বলে ধরি মাছ না ছুঁই পানি।

১৪২. ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (সত্য কোনোদিন চাপা থাকে না) : অন্যায় করে কেউ পার পায় না, শেষ পর্যন্ত খুনি ধরা পড়ল, সত্যিই ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

১৪৩. ধান ভানতে শিবের গীত (প্রাসঙ্গিক কথা ছেড়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা) : ইন্টারভিউতে কাজের কথা বাদ দিয়ে তোমার এমন ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া পরীক্ষকদের পছন্দ হয়নি।

১৪৪. ধরাকে সরা জ্ঞান করা (সবাইকে তুচ্ছ ভাবা/অহংকার করা) : বড় চাকরি পেয়ে অহংকারে সে এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছে, কাউকে পাত্তাই দিচ্ছে না।

১৪৫. ধর্মের ষাঁড় (অকর্মণ্য ও স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি) : বাপের অঢেল টাকা আছে বলে ছেলেটি পাড়ায় ধর্মের ষাঁড়ের মতো টো টো করে ঘুরে বেড়ায়।

১৪৬. ধোঁয়া তুলসী পাতা (একেবারে নির্দোষ বা সাধু ব্যক্তি) : নিজের দোষ ঢাকতে যেয়ো না, তুমিও যে খুব ধোঁয়া তুলসী পাতা নও, তা পাড়ার সবাই জানে।

১৪৭. নকঁড়া ছকঁড়া (হেয় প্রতিপন্ন করা/মূল্যহীন করা) : সামান্য একটা ভুলের জন্য নিজের পুরনো কর্মচারীকে এভাবে বাজারে নকঁড়া ছকঁড়া করা আপনার ঠিক হয়নি।

১৪৮. নটের গুরু (সব নষ্টের মূল বা সর্দার) : পাড়ার এই মারামারির পেছনে যে মেইন নটের গুরু, পুলিশ তাকেই খুঁজছে।

১৪৯. নয়-ছয় করা (অপচয় বা নষ্ট করা) : বাপের কষ্টের উপার্জিত টাকাগুলো এভাবে জুয়া খেলে নয়-ছয় কোরো না।

১৫০. নথ নাড়া (গর্ব বা অহংকার প্রকাশ করা) : টাকা হয়েছে বলে গরিব প্রতিবেশীদের সামনে ওমন নথ নাড়ার কোনো মানে হয় না।

১৫১. নহবত বসা (ধুমধাম বা আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি) : জজের বাড়িতে মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে আজ চারদিকে যেন নহবত বসেছে।

১৫২. নিমকহারাম (অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি) : যাকে খাইয়ে-পরিয়ে মানুষ করলাম, শেষ পর্যন্ত সেই এমন নিমকহারাম হয়ে আমারই ক্ষতি করল!

১৫৩. ননির পুতুল (শ্রমবিমুখ বা অতি আদুরে ব্যক্তি) : রোদ-বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না, ছেলেটি তো দেখছি একেবারে ননির পুতুল।

১৫৪. ন যযৌ ন তস্থৌ (অনিশ্চিত অবস্থা/না এগোনো না পিছোনো) : চাকরির অফারটা গ্রহণ করব কি করব না, এই ভাবনায় আমি এখন ন যযৌ ন তস্থৌ অবস্থায় আছি।

১৫৫. নাক গলানো (অযাচিত হস্তক্ষেপ করা) : অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে এভাবে নাক গলানো ভদ্রলোকের লক্ষণ নয়।

১৫৬. নাকানিচুবানি (নাজেহাল বা চরম হয়রানি হওয়া) : অংকের কঠিন প্রশ্নগুলো সমাধান করতে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের একেবারে নাকানিচুবানি খেতে হলো।

১৫৭. নাড়ির টান (গভীর আন্তরিক সম্পর্ক/রক্তের টান) : বিদেশে যতই সুখে থাকুক না কেন, দেশের মাটির জন্য সবার বুকেই এক অদ্ভুত নাড়ির টান থাকে।

১৫৮. পাথরে পাঁচ ফোড়ন (অসম্ভব ঘটনা) : এমন অলস ছেলের হাতে অত বড় প্রজেক্টের দায়িত্ব দেওয়া আর পাথরে পাঁচ ফোড়ন দেওয়া একই কথা।

১৫৯. পগার পার (পালিয়ে যাওয়া/উধাও হওয়া) : ব্যাংক থেকে কোটি টাকা লোন নিয়ে ব্যবসায়ীটি রাতারাতি দেশ ছেড়ে পগার পার হয়ে গেল।

১৬০. পটের বিবি (নিষ্ক্রিয় ও সাজগোজ করা নারী) : কাজের সময় ওনাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, উনি তো শুধু পটের বিবির মতো সেজে বসে থাকতে পারেন।

১৬১. পদ্মপাতার জল (ক্ষণস্থায়ী বা চঞ্চল অবস্থা) : মানুষের এই জীবন তো আসলে পদ্মপাতার জলের মতো, কখন যে শেষ হয়ে যাবে কেউ জানে না।

১৬২. পরভৃত (পরজীবী/অন্যের ওপর নির্ভরশীল) : নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করো, সারাজীবন এমন পরভৃত হয়ে থাকলে কেউ সম্মান করবে না।

১৬৩. পাকা ধানে মই দেওয়া (কারো তৈরি করা কাজে ক্ষতি করা) : গরীব চাষীটার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়ে তুমি ওনার পাকা ধানে মই দিলে।

১৬৪. পাদপ্রদীপ (সবার নজরে আসা/আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু) : অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন নাটকে তরুণ অভিনেতাটি এক লহমায় পাদপ্রদীপে চলে এলো।

১৬৫. পাখির চোখ করা (নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অবিচল থাকা) : ডব্লিউবিসিএস (WBCS) পরীক্ষাকে পাখির চোখ করে সুনীল দিনরাত পড়াশোনা করছে।

১৬৬. পাততাড়ি গোটানো (সব গুটিয়ে প্রস্থান করা) : ব্যবসায় ক্রমাগত লোকসান হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে দোকান বন্ধ করে পাততাড়ি গোটাতে হলো।

১৬৭. পুকুর চুরি (বিশাল বড় জালিয়াতি বা অপচয়) : সরকারি রাস্তার ফান্ড থেকে এত টাকা গায়েব হয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এ তো একেবারে পুকুর চুরি।

১৬৮. পুঁটি মাছের প্রাণ (অল্পতেই ভয় পায় যে/ক্ষুদ্র প্রাণ) : সামান্য একটু ধমক খেয়েই কেঁদে ফেললে! তোমার তো দেখছি এক্কেবারে পুঁটি মাছের প্রাণ।

১৬৯. পোয়াবারো (পরম সৌভাগ্য/বিরাট লাভ) : প্রোমোটিংয়ের ব্যবসায় নেমেই কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট! সুদীপের তো এখন পোয়াবারো।

১৭০. পণ্ডশ্রম (বৃথা খাটুনি বা নিষ্ফল চেষ্টা) : সারারাত ধরে প্রজেক্টটা বানালাম, অথচ সকালে স্যার বললেন ওটা লাগবে না—পুরোটাই পণ্ডশ্রম হলো।

১৭১. ফপরদালালি (অযাচিত মাতব্বরি করা) : এখানে বড় বড় মাথাদের আলোচনা হচ্ছে, তুমি বাচ্চা ছেলে এর মধ্যে ফপরদালালি করতে এসো না।

১৭২. ফাঁকা আওয়াজ (ভিত্তিহীন হুমকি) : ওকে আমি ভালো করেই চিনি, ওসব ফাঁকা আওয়াজে কান দেওয়ার কোনো দরকার নেই, ও কিছুই করতে পারবে না।

১৭৩. ফুটো জগন্নাথ (অপদার্থ বা গুরুত্বহীন ব্যক্তি) : পার্টিতে তাকে মস্ত বড় পদ দেওয়া হলেও আসলে সে একজন ফুটো জগন্নাথ, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার নেই।

১৭৪. বগলা চটি (খুবই জীর্ণ বা ছেঁড়া জুতো) : এই পুরনো বগলা চটিটা পায়ে দিয়ে তুমি মস্ত বড় ইন্টারভিউ দিতে যাবে নাকি!

১৭৫. বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো (বাইরে কড়া শাসন কিন্তু ভেতরে শিথিলতা) : নিয়মের এত কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও চোর কীভাবে পালাল? একেই বলে বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো।

১৭৬. বসন্তের কোকিল (সুসময়ের বন্ধু) : সুখের দিনে অনেকেই পাশে থাকে, কিন্তু দুঃখের দিনে ওই বসন্তের কোকিলদের একটাকেও খুঁজে পাওয়া যায় না।

১৭৭. বকের ধার্মিক (ভণ্ড সাধু) : সমাজে অনেক বকের ধার্মিক লোক আছে যারা উপাসনালয়ে গিয়ে কান্নাকাটি করে আর বাইরে এসে লোক ঠকায়।

১৭৮. বিনা মেঘে বজ্রপাত (হঠাৎ অপ্রত্যাশিত মহাবিপদ) : সুস্থ-সবল মানুষটার হার্ট অ্যাটাকের খবর শুনে পরিবারের সবার মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো।

১৭৯. বিড়াল তপস্বী (কপট বা ভণ্ড ব্যক্তি) : সাধু বাবার বেশ ধরে যে বসে আছে, সে আসলে একটা বিড়াল তপস্বী, পুলিশ তার আসল রূপ ফাঁস করে দিয়েছে।

১৮০. বামেতর (ডান বা ডানদিকের) : প্রাচীন শাস্ত্রে শুভ কাজের জন্য সবসময় বামেতর হাত ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​​১৮১. বালির বাঁধ (অস্থায়ী বা ভঙ্গুর বস্তু) : অসততার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা সম্পর্ক আসলে বালির বাঁধের মতো, যেকোনো সময় ভেঙে যায়।

১৮২. বাঁ হাতের ব্যাপার (ঘুষ নেওয়া) : আজকাল কিছু সরকারি অফিসে বাঁ হাতের ব্যাপার ছাড়া কোনো ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নড়ে না।

১৮৩. বাঘের চোখ (দুর্লভ বস্তু/যা সহজে পাওয়া যায় না) : এই লকডাউনের বাজারে তুমি খাঁটি খাঁটি জিনিস খুঁজছ, ও তো এখন বাঘের চোখের মতো দুর্লভ।

১৮৪. বিসমিল্লায় গলদ (শুরুতেই ভুল হওয়া) : অঙ্কের প্রথম লাইনেই তো ভুল করে বসে আছ, এভাবে বিসমিল্লায় গলদ হলে উত্তর মিলবে কীভাবে!

১৮৫. বুদ্ধির ঢেঁকি (নিরেট মূর্খ বা নিরেট বোকা) : ছেলেটা একটা বুদ্ধির ঢেঁকি, এত সহজ একটা হিসাবও মাথায় ঢোকাতে পারল না।

১৮৬. ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ঘটনা বা অসম্ভব ব্যাপার) : কৃপণ রামহরি বাবু নিজের পকেট থেকে গরিবদের জন্য হাজার টাকা দান করবেন! এ তো দেখছি ব্যাঙের সর্দির মতো অবাস্তব।

১৮৭. ব্যাঙের আধুলি (সামান্য পুঁজি নিয়ে অহংকার) : লটারিতে মোটে কয়েক হাজার টাকা পেয়েই সে এমন ভাব করছে যেন কত বড় ব্যাঙের আধুলি পেয়েছে!

১৮৮. ভরাডুবি (চরম বিপর্যয় বা সর্বনাশ হওয়া) : শেয়ার বাজারে সব টাকা খাটিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারটির একেবারে ভরাডুবি হয়ে গেল।

১৮৯. ভস্মে ঘি ঢালা (অপাত্রে দান বা বৃথা চেষ্টা) : মূর্খ ছেলেকে এত দামী বই কিনে দেওয়া আর ভস্মে ঘি ঢালা একই কথা, ও কোনোদিন পড়বে না।

১৯০. ভাদুরে কাদা (অসহ্য ঘ্যানঘ্যানে অবস্থা) : সারাক্ষণ ওমন ভাদুরে কাদার মতো ঘ্যানঘ্যান কোরো না তো, যা বলার একবার পরিষ্কার করে বলো।

১৯১. ভানুমতীর খেল (আশ্চর্য বা ভেলকিবাজি) : চোখের পলকে জাদুকর মঞ্চ থেকে গায়েব হয়ে গেল, এ তো দেখছি একেবারে ভানুমতীর খেল!

১৯২. ভিমরুলের চাকে কাঠি দেওয়া (ভীষণ রাগী মানুষকে খ্যাপানো বা বিপদ ডেকে আনা) : অফিসের বড় বাবুর মেজাজ আজ এমনিতেই খারাপ, ওনার ফাইলে সই চাইতে যাওয়া মানে ভিমরুলের চাকে কাঠি দেওয়া।

১৯৩. ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ (প্রচুর অপচয় বা এলাহী কাণ্ড) : পাড়ার পুজোয় যেভাবে টাকা ওড়ানো হচ্ছে, তাকে পুজো না বলে ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ বলাই ভালো।

১৯৪. ভূশণ্ডীর কাক (দীর্ঘজীবী ব্যক্তি বা অভিজ্ঞ প্রবীণ) : দাদামশাই এই গ্রামের সমস্ত ইতিহাসের সাক্ষী, তিনি যেন এ পাড়ার ভূশণ্ডীর কাক।

১৯৫. মগের মুল্লুক (অরাজক দেশ বা যেখানে কোনো নিয়ম নেই) : যখন খুশি দোকানে এসে জিনিসপত্র ভাঙচুর করবে! এটা কি মগের মুল্লুক পেয়েছ নাকি?

১৯৬. মণিকাঞ্চন যোগ (উপযুক্ত মিলন/দুটি চমৎকার জিনিসের একত্র হওয়া) : যেমন রূপসী মেয়ে, তেমনই গুণী বর—আজকের এই বিয়েতে যেন এক মণিকাঞ্চন যোগ ঘটেছে।

১৯৭. মড়াকান্না (অহেতুক উচ্চস্বরে বিলাপ বা কান্নাকাটি) : সামান্য একটু হাত কেটে গেছে তাতেই পাড়া মাথায় করে এমন মড়াকান্না কাঁদার কী আছে!

১৯৮. মাছের মায়ের পুত্রশোক (মিথ্যে বা কৃত্রিম শোক প্রকাশ) : যে নিজে সৎ মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল, সে আজ ওনার মৃত্যুর খবর শুনে মাছের মায়ের পুত্রশোক দেখাচ্ছে!

১৯৯. মিছরির ছুরি (মুখে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ/কপট আচরণ) : ওর মিষ্টি কথায় ভলো না, ও হলো মিছরির ছুরি, হাসতে হাসতে মানুষের ক্ষতি করে।

২০০. মুখচোর (লজ্জাশীল বা মুখচোরা) : ছেলেটি বড্ড মুখচোর, মেহমানদের সামনে এলে লজ্জায় একটা কথাও বলতে পারে না।

২০১. মুখের গ্রাস কাড়া (বেঁচে থাকার শেষ সম্বল কেড়ে নেওয়া) : গরীব দিনমজুরটার চাকরিটা খেয়ে তোমরা ওর মুখের গ্রাস কেড়ে নিলে, ভগবান তোমাদের ক্ষমা করবেন না।

২০২. মুড়িমুড়কির মতো (তুচ্ছ জিনিস ভাবা বা অকাতরে বিলানো) : পরীক্ষার বাজারে এই জাল প্রশ্নপত্রগুলো চারদিকে যেন মুড়িমুড়কির মতো বিক্রি হচ্ছে।

২০৩. যক্ষের ধন (কৃপণের আগলে রাখা ধন) : রামহরি বাবু নিজের জমানো টাকাগুলো কাউকে ছোঁয়া তো দূর, দেখতেও দেন না, ওগুলো যেন ওনার কাছে যক্ষের ধন।

২০৪. যমের অরুচি (যে সহজে মরে না) : এত বড় অসুখ থেকেও লোকটা দিব্যি সুস্থ হয়ে গেল, ও আসলে যমের অরুচি।

২০৫. যমে মানুষে টানাটানি (জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ) : দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে আহত ছেলেটির জীবন নিয়ে এখন যেন যমে মানুষে টানাটানি চলছে।

২০৬. রুই-কাতলা (প্রভাবশালী বা মস্ত বড় ব্যক্তি) : পুলিশ চুনোপুঁটি চোরদের ধরছে ঠিকই, কিন্তু এই দুর্নীতির পেছনের আসল রুই-কাতলারা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

২০৭. রাবণের চিতা (চির অশান্তি) : ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারির কারণে ওই পরিবারে এখন যেন রাবণের চিতা জ্বলছে, শান্তির কোনো নামগন্ধ নেই।

২০৮. রাজযোটক (চমৎকার মিল/উপযুক্ত জোড়) : পাত্র-পাত্রী দুজনের স্বভাব আর গুণ হুবহু এক, এদের বিয়েটা একেবারে রাজযোটক হয়েছে।

২০৯. রাঘব বোয়াল (সর্বগ্রাসী বা অতি লোভী প্রভাবশালী ব্যক্তি) : সামান্য কেরানিকে ধরে লাভ নেই, সিন্ডিকেটের আসল রাঘব বোয়ালদের না ধরলে এই জালিয়াতি বন্ধ হবে না।

২১০. রাতের পাহারাদার (নিশাচর বা পাহারায় নিযুক্ত ব্যক্তি) : পাহাড়ি গ্রামে বন্য হাতির উপদ্রব রুখতে যুবকেরা লাঠি হাতে রাতের পাহারাদার সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

২১১. লাঠির মাথায় তেল দেওয়া (ক্ষমতাবানের তোষামোদ করা) : যে বড় নেতা, তাকে সবাই খাতির করে—আসলে দুনিয়াটাই এমন, সবাই লাঠির মাথায় তেল দিতে ব্যস্ত।

২১২. লাল পানি (মদ বা মদ্যজাতীয় পানীয়) : বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসে সে এমন লাল পানি গিলল যে বাড়ি ফেরার হুঁশটুকুও রইল না।

২১৩. লেফাফা দুরস্ত (বাইরে পরিপাটি কিন্তু ভেতরে শূন্য) : পোশাক-আশাকে জামাইবাবুকে বেশ লেফাফা দুরস্ত মনে হলেও আসলে ওনার পকেটে একটা টাকাও নেই।

২১৪. লঙ্কাকাণ্ড (তুমুল ঝগড়া বা বিশৃঙ্খলা) : পাড়ায় জল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বাড়ির মহিলাদের মধ্যে যেন এক জ্যান্ত লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেল।

২১৫. শাঁখের করাত (উভয় সংকট) : সত্য বললে মা রাগ করেন, আর মিথ্যে বললে বাবা মারেন—আমার অবস্থা এখন অবিকল শাঁখের করাতের মতো।

২১৬. শকুনি মামা (কুটিল পরামর্শদাতা) : ওর মতো শকুনি মামার কথা শুনে চললে তোমার সাজানো সংসারটা অল্প দিনেই ছারখার হয়ে যাবে।

২১৭. শরতের শিশির (ক্ষণস্থায়ী বস্তু) : বড়লোকদের সুখ তো আসলে শরতের শিশিরের মতো, কখন যে কর্পূরের মতো উড়ে যায় টের পাওয়া যায় না।

২১৮. শত্রুর মুখে ছাই (শত্রুর উদ্দেশ্য ব্যর্থ করা/মঙ্গল হওয়া) : সব বাধা পেরিয়ে ছেলেটি পরীক্ষায় প্রথম হলো, সত্যিই শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করল।

২১৯. শামুকের পা (অদৃশ্য বা অতি ধীর গতি) : তোমার কাজের গতি তো দেখছি শামুকের পায়ের মতো, এভাবে চললে আজ রাতেও কাজ শেষ হবে না।

২২০. শহুরে বাবু (ভাবনাহীন বিলাসী মানুষ) : সামান্য একটু মাটির রাস্তা দেখেই উনি ভয় পেয়ে গেলেন, এমন শহুরে বাবুদের গ্রামে না আসাই ভালো।

২২১. ষণ্ডামার্কা (গুণ্ডা প্রকৃতির লোক) : পাড়ার মোড়ে কিছু ষণ্ডামার্কা ছেলে রাত হলেই আড্ডা মারে, ওখান দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাই মুশকিল।

২২২. ষোল আনা (সম্পূর্ণ বা পুরোপুরি) : তোমার সব কথা আমি বিশ্বাস করলাম, কারণ আমি জানি তুমি যা বলেছ তা ষোল আনা সত্যি।

২২৩. ষাঁড়ের গোঁ (ক্ষতিকর একগুঁয়েমি) : নিজের এই ষাঁড়ের গোঁ ত্যাগ করো, নতুবা এই জেদের কারণে বড় কোনো বিপদে পড়বে।

২২৪. সপ্তম আকাশে চড়া (অত্যন্ত রেগে যাওয়া) : সামান্য কাঁচের গ্লাসটা হাত থেকে পড়ে ভাঙতেই মালকিন একেবারে সপ্তম আকাশে চড়ে বসলেন।

২২৫. সবুরে মেওয়া ফলে (ধৈর্য ধরলে ভালো ফল পাওয়া যায়) : তাড়াহুড়ো কোরো না, একটু অপেক্ষা করো; প্রবাদেই আছে সবুরে মেওয়া ফলে।

২২৬. সাপের ছুঁচো গেলা (ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক দায় ঘাড়ে নেওয়া) : অন্যায়টা করেও সে এখন পুলিশের ভয়ে চুপ করে আছে, ওনার অবস্থা এখন সাপের ছুঁচো গেলার মতো।

২২৭. সোনার পাথরবাটি (অবাস্তব জিনিস) : অলস মানুষের মুখে বড় বড় ব্যবসার পরিকল্পনা আসলে সোনার পাথরবাটির মতোই অবাস্তব।

২২৮. সোনার হরিণ (দুর্লভ বা কাঙ্ক্ষিত বস্তু) : আজকালকার দিনে একটা ভালো সরকারি চাকরি পাওয়া মধ্যবিত্তের কাছে যেন সোনার হরিণ।

২২৯. হস্তী মূর্খ (মস্ত বড় বোকা) : ছেলেটা যে এমন হস্তী মূর্খ তা আগে জানলে ওরে আমি কোনোদিনই এই দায়িত্ব দিতাম না।

২৩০. হাঁটে হাঁড়ি ভাঙা (সবার সামনে গোপন কথা ফাঁস করা) : বেশি চালাকি কোরো না, মুখ খুললে কিন্তু তোমার সব কুকীর্তির কথা আমি হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেবো।

২৩১. হ হ র র চ চ (বিশৃঙ্খলা বা হট্টগোল) : অফিসের বড় বাবু না আসায় কর্মচারীরা কাজ ফেলে নিজেদের মধ্যে হ হ র র চ চ জুড়ে দিয়েছে।

২৩২. হরিঘোষের গোয়াল (বহু অপদার্থ মানুষের আড্ডাখানা) : পড়াশোনা বাদ দিয়ে তোমার এই ঘরটাকে তোমরা বন্ধুরা মিলে হরিঘোষের গোয়াল বানিয়ে ফেলেছ।

২৩৩. হাড় হাভাতে (হতভাগ্য বা চিরদরিদ্র) : এমন হাড় হাভাতে পরিবার আমি আর দেখিনি, দিনরাত খেটেও ওদের অভাব দূর হয় না।

২৩৪. হাড় জুড়ানো (শান্তি পাওয়া বা স্বস্তি পাওয়া) : এত বছর পর ছেলেটা একটা পাকা চাকরি পেল, এতদিনে বুড়ো বাপের হাড় জুড়ালো।

২৩৫. হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল) : ব্যাংকে জমানো এই কয়েকটা টাকাই আমার হাতের পাঁচ, এটা খরচ হয়ে গেলে আমি পথে বসব।

২৩৬. হাল ধরা (নেতৃত্ব নেওয়া বা দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া) : বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর বড় ছেলেটিই এসে সংসারের হাল ধরল।

২৩৭. হুলস্থুল কাণ্ড (প্রচণ্ড হৈচৈ বা এলাহী ব্যাপার) : পাড়ায় বিখ্যাত সেলিব্রেটি আসতেই চারদিকে এক হুলস্থুল কাণ্ড বেধে গেল।

২৩৮. অগ্নিমান্দ্য (ক্ষুধামন্দা বা হজমের অভাব) : কদিন ধরে তেল-ঝাল খেয়ে পেটে এমন অগ্নিমান্দ্য হয়েছে যে এখন কিছু খেতেই ইচ্ছে করছে না।

২৩৯. অনাহারী বাঘ (ক্ষুধার্ত ও হিংস্র ব্যক্তি) : রাগী বসের সামনে আজ ভুলেও যেয়ো না, ওনার মেজাজ এখন অনাহারী বাঘের মতো হয়ে আছে।

২৪০. অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী (কম জেনে বেশি পণ্ডিতি করার কুফল) : নিজে ভালো করে না জেনে অন্যকে জ্ঞান দিতে যেয়ো না, মনে রেখো অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী।

​​২৪১. অষ্টরম্ভা (ফাঁকি বা ফাঁকা/কিছুই না পাওয়া) : মাসজুড়ে এত খাটুনি খাটলাম, অথচ বোনাসের সময় মালিক আমার হাতে অষ্টরম্ভা ধরিয়ে দিলেন।

২৪২. আকাঙ্ক্ষার ধন (যাকে পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকে) : বহু সাধনার পর এই ট্রফিটি জিতে খেলোয়াড়টি তার আকাঙ্ক্ষার ধন ফিরে পেল।

২৪৩. আক্কেল সেলামি (নির্বুদ্ধিতার দণ্ড বা জরিমানা) : বিনা হেলমেটে বাইক চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আজ তাকে হাজার টাকা আক্কেল সেলামি দিতে হলো।

২৪৪. আগুনে ঘি ঢালা (রাগ আরও বাড়িয়ে দেওয়া) : বাবা এমনিতেই রেগে ছিলেন, তার ওপর ছোট ভাইয়ের ওই উল্টো পাল্টা যুক্তি যেন আগুনে ঘি ঢালল।

২৪৫. আকাশ কুসুম (অসম্ভব কল্পনা) : ঘরে বসে বসে লটারি জিতে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখা আসলে আকাশ কুসুম ভাবনার মতোই অবাস্তব।

২৪৬. আটঘাট বাঁধা (কাজের আগে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া) : প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোর্টে লড়াই করার জন্য উকিল বাবু এবার সব দিক থেকে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন।

২৪৭. আদাজল খেয়ে লাগা (প্রাণপণ চেষ্টা করা) : পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করার জন্য রোহন এবার আদাজল খেয়ে লেগেছে।

২৪৮. আহ্লাদে আটখানা (অত্যন্ত আনন্দিত হওয়া) : জন্মদিনে বাবার কাছ থেকে দামী বাইক উপহার পেয়ে ছেলেটি একেবারে আহ্লাদে আটখানা হয়ে গেছে।

২৪৯. ইতর বিশেষ (তারতম্য বা সামান্য তফাত) : এই দুটো মোবাইল ফোনের ফিচারের মধ্যে খুব একটা ইতর বিশেষ চোখে পড়ে না।

২৫০. উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী বা বেহিসাবি খরচ করে যে) : বাবার এত সম্পত্তি পেয়ে ছেলেটি এমন উড়নচণ্ডী হয়ে উঠেছে যে, কয়েক বছরেই সব শেষ করে দেবে।

২৫১. উত্তম মধ্যম (প্রহার করা বা পিটুনি দেওয়া) : পকেটমারটিকে হাতেনাতে ধরে এলাকার লোকজন বেশ উত্তম মধ্যম দিল।

২৫২. উভয় সংকট (দুদিকেই বিপদ) : সত্য বললে বন্ধু চটে, আর না বললে পুলিশ ধরে—আমি তো দেখছি চরম উভয় সংকটে পড়লাম।

২৫৩. উলোবনে মুক্তো ছড়ানো (অপাত্রে মূল্যবান জিনিস দেওয়া বা বুঝানো) : মূর্খদের সামনে দর্শনের কথা বলা আর উলোবনে মুক্তো ছড়ানো একই কথা।

২৫৪. এক চোখা (পক্ষপাতদুষ্ট) : এমন এক চোখা বিচারকের কাছ থেকে কখনোই সঠিক এবং নিরপেক্ষ বিচার আশা করা যায় না।

২৫৫. একাদশে বৃহস্পতি (সৌভাগ্যের বিষয় বা খুব ভালো সময়) : নতুন ব্যবসায় প্রথম মাসেই দ্বিগুণ মুনাফা! তোমার তো এখন একাদশে বৃহস্পতি চলছে দেখছি।

২৫৬. এক ক্ষুরে মাথা মুড়োনো (একই দলের বা একই স্বভাবের হওয়া) : ওদের দুজনের কারো ওপর ভরসা কোরো না, ওরা দুজনেই আসলে এক ক্ষুরে মাথা মুড়িয়েছে।

২৫৭. ওজন বুঝে চলা (নিজের মর্যাদা ও সামর্থ্য রক্ষা করে চলা) : সমাজে শান্তি ও সম্মান নিয়ে টিকে থাকতে হলে সবসময় নিজের ওজন বুঝে চলা উচিত।

২৫৮. কচ্ছপের কামড় (যা সহজে ছাড়ে না বা ছোটে না) : পাওনাদাররা টাকার জন্য তাগাদা দিয়ে যে কচ্ছপের কামড় ধরেছে, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় দেখছি না।

২৫৯. কলুর বলদ (অবিরাম খাটুনি খাটে যে/পরাধীন ব্যক্তি) : সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসারের জন্য একাই খাটি, আমি যেন এই বাড়ির এক কলুর বলদ।

২৬০. কাগজে বাঘ (মিথ্যে বা নামমাত্র বীর) : মুখে যতই বীরত্বের কথা বলুক না কেন, আসল বিপদের সময় বোঝা যায় সে একটা কাগজে বাঘ।

২৬১. কাকভূষণ্ডী (দীর্ঘজীবী ব্যক্তি বা বহুদর্শী প্রবীণ) : আমাদের গ্রামের ওই বৃদ্ধ দাদামশাই যেন এক কাকভূষণ্ডী, কত কালের ইতিহাস যে ওনার জানা!

২৬২. কান পাতলা (যে সহজেই অন্যের কথা বিশ্বাস করে) : অফিসের বস খুব কান পাতলা মানুষ, কেউ একটু কারো নামে লাগালেই চটে যান।

২৬৩. কান ভাঙানো (কুপরামর্শ দেওয়া বা কারো বিরুদ্ধে গোপনে বলা) : শাশুড়ির বিরুদ্ধে বৌমার কান ভাঙানোর লোকের অভাব নেই এ পাড়ায়।

২৬৪. কাষ্ঠ হাসি (শুকনো বা কৃত্রিম হাসি) : মনের ভেতর এত বড় ক্ষোভ ও দুঃখ লুকিয়ে রেখে বাইরে এমন কাষ্ঠ হাসি হাসা শুধু তোমার পক্ষেই সম্ভব।

২৬৫. কুনো বিড়াল (গৃহকোণপ্রিয় বা লজ্জাশীল ব্যক্তি) : সবসময় ঘরের কোণে বসে না থেকে বাইরের দুনিয়াটাও একটু দেখো, এমন কুনো বিড়াল হয়ে থেকো না।

২৬৬. কুঁড়ের বাদশা (ভীषण অলস ব্যক্তি) : দুপুর বারোটা বেজে গেল অথচ এখনো বিছানা ছাড়েনি, ছেলেটি একটা আস্ত কুঁড়ের বাদশা।

২৬৭. কেঁচে গণ্ডূষ (নতুন করে শুরু করা) : হিসেবে মস্ত বড় ভুল হওয়ায় ম্যানেজার বাবু খাতাটা বন্ধ করে বললেন, "চলুন আবার কেঁচে গণ্ডূষ করা যাক।"

২৬৮. কেঁচো খুঁড়তে সাপ (সামান্য ঘটনা থেকে বিরাট রহস্য বা বিপদ বের হওয়া) : একটা সাধারণ চুরির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এখন আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সন্ধান পেয়েছে, একেই বলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ।

২৬৯. কেতা দুরস্ত (পরিপাটি বা ফ্যাশনেবল) : পোশাক-আশাকে ছেলেটি বেশ কেতা দুরস্ত, কিন্তু কাজের বেলায় একদম শূন্য।

২৭০. কেউ কেটা (গণ্যমান্য ব্যক্তি) : সে নিজেকে মস্ত বড় কেউ কেটা মনে করে, কিন্তু আসলে এ পাড়ার তাকে কেউ চেনেও না।

২৭১. কৈ মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না বা খুব শক্ত প্রাণ) : অত বড় পাহাড় থেকে নিচে পড়েও লোকটা বেঁচে ফিরল! ওনার দেখছি কৈ মাছের প্রাণ।

২৭২. খয়ের খাঁ (চাটুকার বা তোষামোদকারী) : অফিসের বসের চারপাশে কিছু খয়ের খাঁ সবসময় ঘুরে বেড়ায় নিজের ফায়দা লোটার জন্য।

২৭৩. খন্ড প্রলয় (ভীষণ কাণ্ড বা তুমুল ঝগড়া) : তুচ্ছ একটা খেলার মাঠের বিষয় নিয়ে দুই পাড়ার ছেলেদের মধ্যে যেন খন্ড প্রলয় ঘটে গেল।

২৭৪. খাল কেটে কুমির আনা (নিজের ভুলে নিজে বিপদ ডেকে আনা) : ওই দুষ্টু ছেলেটাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে তুমি নিজেই নিজের সংসারে খাল কেটে কুমির আনলে।

২৭৫. গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ) : নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করো, গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিলে জীবনে কোনোদিন উন্নতি করতে পারবে না।

২৭৬. গদাই লস্করি চাল (অতি ধীর গতি) : ট্রেনের সময় হয়ে এলো আর তুমি এখনো ওমন গদাই Lস্করি চালে হাঁটছ!

২৭৭. গভীর জলের মাছ (খুবই চতুর ও রহস্যময় ব্যক্তি) : সুমনকে যতটা সোজা ও সরল ভাবছ সে তা নয়, সে আসলে বেশ গভীর জলের মাছ।

২৭৮. গরজ বড় বালাই (প্রয়োজনের তাগিদ বড় জিনিস) : এই চড়া রোদের মধ্যে কেউ খাটতে চায় না, কিন্তু গরজ বড় বালাই তাই পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে।

২৭৯. গা ঢাকা দেওয়া (পালিয়ে যাওয়া বা আত্মগোপন করা) : পুলিশ আসার খবর পেয়েই মূল অপরাধীটি এলাকা থেকে রাতারাতি গা ঢাকা দিল।

২৮০. গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (কোনো দায়িত্ব না নিয়ে অবহেলায় ঘুরে বেড়ানো) : সংসারের এত বড় অভাব, আর বড় ছেলেটা কোনো কাজ না করে শুধু গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়াচ্ছে।

২৮১. গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা বা আসল কথা বলার আগের ভণিতা) : অত গৌরচন্দ্রিকা না করে সরাসরি কাজের কথাটা বলো তো, আমার হাতে সময় কম।

২৮২. গোকুলের ষাঁড় (স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি) : বাপের অঢেল পয়সা আছে বলে ছেলেটি কোনো নিয়ম না মেনে পাড়ায় গোকুলের ষাঁড়ের মতো ঘুরে বেড়ায়।

২৮৩. গোঁফ খেজুরে (নিতান্ত অলস) : এমন গোঁফ খেজুরে লোকের ভাগ্যে কোনোদিন কোনো উন্নতি জোটে না, মুখে শুধু বড় বড় কথা।

2৮৪. গোবর গণেশ (মূর্খ ও জড়বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি) : ছেলেটাকে এত করে অঙ্কটা বোঝালাম, কিন্তু সে একটা গোবর গণেশ, কিছুই মাথায় ঢুকল না।

২৮৫. গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া বা অধঃপতনে যাওয়া) : খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ভালো বাড়ির ছেলেটাও শেষ পর্যন্ত একেবারে গোল্লায় গেল।

২৮৬. ঘোড়েল লোক (খুবই সেয়ানা বা ধূর্ত মানুষ) : বিকাশ বাবু অত্যন্ত ঘোড়েল লোক, ওনার সাথে নতুন কোনো ব্যবসার চুক্তি করার আগে সাবধান থেকো।

২৮৭. ঘোড়ার ডিম (অবাস্তব বা অলীক বস্তু) : সারাদিন এত পড়াশোনা করে পরীক্ষার খাতায় তুমি তো দেখছি মস্ত বড় এক ঘোড়ার ডিম লিখে এসেছ!

২৮৮. ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত বিলাসী শখ) : নুন আনতে পান্তা ফুরায় যার সংসারে, তার আবার দামী আইফোন কেনার ঘোড়া রোগ জেগেছে।

2৮৯. ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া (বিপদ কেটে গিয়ে পরম স্বস্তি পাওয়া) : হারানো দরকারি সার্টিফিকেটগুলো শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়ার পর যেন আমার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল।

২৯০. ঘিয়ের শ্রাদ্ধ (অপচয় করা বা অপাত্রে ব্যয়) : এমন অযোগ্য এবং অলস লোকের পেছনে এত টাকা খরচ করা মানে স্রেফ ঘিয়ের শ্রাদ্ধ করা ছাড়া আর কিছু নয়।

২৯১. চোখের বালি (চক্ষুশূল বা যাকে একদম সহ্য করা যায় না) : সৎ মায়ের কাছে অনাথ মেয়েটি সবসময় যেন একটা চোখের বালি হয়ে রইল।

২৯২. চোখের পর্দা (লজ্জা বা শরম) : মানুষটার চোখের পর্দা বলতে কিছু নেই, গুরুজনদের সামনেও মুখে মুখে কেমন তর্ক করে!

২৯৩. চোখ কপালে ওঠা (বিস্মিত বা চরম অবাক হওয়া) : বাজারের জিনিসপত্রের এই আকাশছোঁয়া দাম দেখে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের চোখ কপালে উঠেছে।

২৯৪. চিনির বলদ (যে কেবল খাটে কিন্তু ফলের ভাগ পায় না) : এই অফিসের সব কঠিন কাজ আমিই করি, অথচ প্রমোশন পায় অন্যরা—আমি যেন এক চিনির বলদ।

২৯৫. চুনোপুঁটি (নগণ্য বা অতি সাধারণ মানুষ) : আসল বড় অপরাধীরা আড়ালেই থেকে গেল, পুলিশ শুধু কয়েকজন চুনোপুঁটিকে গ্রেপ্তার করে কেস বন্ধ করল।

২৯৬. চশমখোর (নির্লজ্জ বা অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি) : এমন চশমখোর লোক আমি জীবনে দেখিনি, উপকার পাওয়ার পরও পেছনে মানুষের নিন্দা করে বেড়ায়।

২৯৭. চালের বাটা (অত্যন্ত রূপসী নারী) : নতুন কনেটি দেখতে যেন একদম চালের বাটা লক্ষ্মী প্রতিমা।

২৯৮. চোখ টাটানো (ঈর্ষা বা চরম হিংসা করা) : আমার নতুন গাড়ি কেনা দেখে প্রতিবেশীদের যেন ভেতর ভেতরে চোখ টাটাতে শুরু করেছে।

২৯৯. চাঁদের হাট (প্রিয়জন বা গুণীজনদের মহা মিলনমেলা) : ঈদের আনন্দের দিনে আমাদের গ্রামের বাড়িতে যেন আত্মীয়দের এক চাঁদের হাট বসেছিল।

৩০০. ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধা (বৃথা চেষ্টা বা অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা) : এই লোকসান হওয়া ভাঙা ব্যবসা জোড়া লাগানোর জন্য তোমার এই চেষ্টা আসলে ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধার মতোই ব্যর্থ।

৩০১. ছক্কা পাঞ্জা করা (বড় বড় কথা বলা বা চালবাজি করা) : বেশি ছক্কা পাঞ্জা কোরো না, তোমার আসল রূপ আমার ভালো করেই জানা আছে।

৩০২. ছাপোষা (অত্যন্ত গরিব বা সাধারণ মধ্যবিত্ত) : আমাদের মতো ছাপোষা মানুষের পক্ষে শহরে এত দামী ফ্ল্যাট কেনা অসম্ভব।

৩০৩. ছেঁদো কথা (অসার বা ফালতু কথা) : কাজের কথা বাদ দিয়ে তোমার এমন ছেঁদো কথা শোনার মতো সময় আমার নেই।

৩০৪. জিলিপির প্যাঁচ (কুটিলতা বা জটিল স্বভাব) : ওর মনের ভেতর যে এত জিলিপির প্যাঁচ আছে, তা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই।

৩০৫. জলের আলপনা (অস্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী বস্তু) : মানুষের এই পার্থিব জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আসলে জলের আলপনার মতোই বিলীন হয়ে যায়।

৩০৬. জলের লিখন (অস্থায়ী প্রভাব) : অহংকারী মানুষের রাজত্ব আসলে জলের লিখন, সময় এলেই সব মুছে যায়।

৩০৭. জীবন্মৃত (বেঁচে থেকেও মৃতের মতো থাকা) : একমাত্র ছেলের শোকে বৃদ্ধ বাবা এখন যেন এক জীবন্মৃত মানুষে পরিণত হয়েছেন।

৩০৮. জ্বলন্ত আগুনে হাত দেওয়া (জেনেশুনে চরম বিপদে পড়া) : ওই কুখ্যাত মাফিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা আর জ্বলন্ত আগুনে হাত দেওয়া একই কথা।

৩০৯. ঝিকে মেরে বউকে বোঝানো (একজনকে দেখিয়ে অন্যজনকে সতর্ক করা) : ম্যানেজার বাবু ছোট কর্মচারীকে বকলেন বটে, কিন্তু আসলে তিনি ঝিকে মেরে বউকে বোঝালেন যাতে সবাই সোজা হয়ে চলে।

৩১০. ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগমতো কাজ করা) : ব্যবসায়ীটি বাজারে তেলের সংকট দেখেই ঝোপ বুঝে কোপ মেরে দাম বাড়িয়ে দিল।

৩১১. ঝড়ো কাক (বিপর্যস্ত বা দুর্গত ব্যক্তি) : মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজে ছেলেটি একেবারে ঝড়ো কাকের মতো কাপতে কাপতে ঘরে ফিরল।

৩১২. টইটম্বুর (ভরপুর বা কানায় কানায় পূর্ণ) : বর্ষার জলে গ্রামের দিঘিটি এখন একেবারে টইটম্বুর হয়ে আছে।

৩১৩. টুপভুজঙ্গ (নেশায় চূর বা অতিশয় মাতাল) : মদ গিলে সে এমন টুপভুজঙ্গ হয়ে ড্রেনে পড়ে আছে যে, তোলার লোক নেই।

৩১৪. টেঁকে গোঁজা (আত্মসাৎ করা বা পকেটে পোরা) : তহবিলের সব টাকা নিজের টেঁকে গুঁজে প্রধানবাবু এখন সাধু সাজছেন।

৩১৫. টাকার গরম (অর্থের অহংকার) : ওনার সাথে বেশি কথা বলতে যেয়ো না, ইদানীং ওনার টাকার গরম বড্ড বেড়ে গেছে।

৩১৬. টানাপোড়েন (অস্থিরতা বা উভয় সংকট) : সংসারে অভাব আর অশান্তির এই টানাপোড়েনে আমার জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠল।

৩১৭. ঠোঁটকাটা (বেহায়া বা অত্যন্ত স্পষ্টভাষী) : রমিজ অত্যন্ত ঠোঁটকাটা মানুষ, কাউকেই তোয়াক্কা না করে সত্য কথাটা মুখে বলে দেয়।

৩১৮. ঠুঁটো জগন্নাথ (অক্ষম বা অকেজো ব্যক্তি) : কমিটিতে ওনাকে সভাপতি করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওনার কোনো ক্ষমতা নেই—তিনি আসলে এক ঠুঁটো জগন্নাথ।

৩১৯. ঠক বাছতে গাঁ উজাড় (খারাপের সংখ্যা এত বেশি যে ভালো খোঁজাই মুশকিল) : এই অফিসের চোর অফিসারদের তালিকা করতে গেলে তো দেখছি ঠক বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে।

৩২০. ঠাণ্ডা লড়াই (মুখোমুখি যুদ্ধ না করে মানসিক দ্বন্দ্ব) : দুই জা-এর মধ্যে মুখে কোনো ঝগড়া নেই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তীব্র ঠাণ্ডা লড়াই চলছে।

৩২১. ডুমুরের ফুল (অদৃশ্য বা দুর্লভ বস্তু) : চাকরি পাওয়ার পর তুমি তো ভাই একেবারে ডুমুরের ফুল হয়ে গেলে, দেখাই পাওয়া যায় না!

৩২২. ডানপিটে (অত্যন্ত দুরন্ত ও নির্ভীক) : পাড়ার ওই ডানপিটে ছেলেটাকে সামলানো ওনার একার পক্ষে সম্ভব নয়।

৩২৩. ডাকাবুকো (ভীষণ সাহসী বা অকুতোভয়) : সে অত্যন্ত ডাকাবুকো ছেলে, মাঝরাতেও শ্মশানের পাশ দিয়ে একা হেঁটে চলে যেতে পারে।

৩২৪. ডুমুর চড়ানো (আয়ত্তে আনা বা কঠোর শাসন করা) : ওমন অবাধ্য ছেলেকে কীভাবে ডুমুর চড়াতে হয়, তা আমার ভালো করেই জানা আছে।

৩২৫. ঢাক ঢাক গুড় গুড় (গোপন করার চেষ্টা) : যা বলার সবার সামনে সরাসরি বলো, এই ঢাক ঢাক গুড় গুড় করার কোনো প্রয়োজন নেই।

৩২৬. ঢেঁকি অবতার (মূর্খ বা নির্বোধ ব্যক্তি) : এই ঢেঁকি অবতারকে দিয়ে কোনো জরুরি কাজ হবে না, অন্য কাউকে দায়িত্ব দাও।

৩২৭. ঢেঁকির স্বর্গবাস (যে যেখানেই যাক খাটুনি তার পিছু ছাড়ে না) : আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের আর আরাম কোথায়, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।

৩২৮. ঢিল মারলে পাটকেলটি খেতে হয় (যেমন কর্ম তেমন ফল) : তুমি যদি অন্যের নামে অপবাদ দাও, তবে মনে রেখো ঢিল মারলে পাটকেলটি খেতে হয়।

৩২৯. তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী বা সহজে ভেঙে পড়ে যা) : অসৎ উপায়ে গড়া তাদের ওই বিশাল সাম্রাজ্য আজ পুলিশের একটা তল্লাশিতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল।

৩৩০. তিলকে তাল করা (ছোট ঘটনাকে অপ্রয়োজনে বড় করে দেখা) : সামান্য একটা কথা নিয়ে প্রতিবেশীরা কেন যে তিলকে তাল করছে আমি বুঝতে পারছি না।

৩৩১. তীর্থের কাক (আগ্রহী বা ব্যাকুল প্রতিক্ষাকারী) : ফলাফলের আশায় পরীক্ষার্থীরা সকাল থেকেই ইন্টারনেটের সামনে তীর্থের কাকের মতো বসে আছে।

৩৩২. তামার বিষ (অর্থের কুপ্রভাব) : হঠাৎ লটারির টাকা পেয়ে রনি বন্ধুদের চিনতেই পারছে না, একেই বলে তামার বিষ।

৩৩৩. তালকানা (বেতাল বা বেহিসাবি ব্যক্তি) : এমন তালকানা লোককে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দিলে হিসেব মিলবে না কোনোদিন।

৩৩৪. তুষের আগুন (অন্তর দাহ বা দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট) : একমাত্র মেয়ের অকাল মৃত্যুর শোক মায়ের বুকে তুষের আগুনের মতো দিনরাত জ্বলছে।

৩৩৫. তেল মাথায় তেল দেওয়া (যার আছে তাকে আরও দেওয়া/চাটুকারিতা) : বড়লোকদের উপহার দিয়ে লাভ কী, ওটা তো শুধু তেল মাথায় তেল দেওয়া।

৩৩৬. তৈলাধার পাত্র না পাত্রাধার তৈল (অহেতুক চুলচেরা বিচার) : কাজের কাজ কিছু না করে তোমরা শুধু তৈলাধার পাত্র না পাত্রাধার তৈল—এই তর্কেই সময় নষ্ট করছ।

৩৩৭. থই না পাওয়া (কূল-কিনারা না পাওয়া বা দিশেহারা হওয়া) : ব্যবসার এই বিশাল লোকসানের ধাক্কায় আমি আর কোনো থই পাচ্ছি না।

৩৩৮. থ বনে যাওয়া (স্তম্ভিত বা খুব অবাক হওয়া) : হঠাৎ পুলিশের গাড়ি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতে দেখেই বাড়ির সবাই থ বনে গেল।

৩৩৯. দা-কুমড়ো সম্বন্ধ (ভীষণ শত্রুতা) : সম্পত্তি নিয়ে দুই শরিকের মধ্যে এখন একেবারে দা-কুমড়ো সম্বন্ধ তৈরি হয়েছে।

৩৪০. দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু) : টাকা থাকলে দুধের মাছির অভাব হয় না, কিন্তু বিপদে কাউকে পাশে পাওয়া যায় না।

৩৪১. দিনকে রাত করা (মিথ্যেকে সত্য বলে চালানো) : উকিল বাবু টাকার জোরে আদালতের সামনে এমন দিনকে রাত করে দিলেন যে অপরাধী খালাস পেয়ে গেল।

৩৪২. দু নৌকায় পা দেওয়া (দুই পক্ষে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা) : রাজনীতিতে এভাবে দু নৌকায় পা দিয়ে চললে কোনো পক্ষই তোমাকে বিশ্বাস করবে না।

৩৪৩. দুমুখো সাপ (যে দুই পক্ষেই কথা বলে কলহ বাধায়) : রতন একটা দুমুখো সাপ, ও আমাদের কথা ওখানে আর ওখানকার কথা এখানে লাগিয়ে বেড়ায়।

৩৪৪. দহরম-মহরম (ঘনিষ্ঠতা বা খুব মাখামাখি) : আজকাল চোর আর পুলিশের মধ্যে এমন দহরম-মহরম দেখলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়!

৩৪৫. দক্ষিণ হস্তের ব্যাপার (ভোজন বা খাওয়া-দাওয়া) : অনেক গল্প তো হলো, এবার একটু দক্ষিণ হস্তের ব্যাপারটা সেরে নেওয়া যাক, বড্ড খিদে পেয়েছে।

৩৪৬. আদালতের ষাঁড় (যে আইন বা নিয়ম মানে না) : সরকারি ক্ষমতার দাপটে ছেলেটি এলাকায় আদালতের ষাঁড়ের মতো যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে।

৩৪৭. দাঁত নখ বার করা (আসল হিংস্র রূপ প্রকাশ করা) : এতকাল ভদ্র সেজে থাকলেও শেষ পর্যন্ত টাকার লোভে সে নিজের দাঁত নখ বার করে ফেলল।

৩৪৮. দিবানিদ্রা (দিনের বেলার ঘুম) : এই ভর দুপুরে মস্ত বড় এক দিবানিদ্রা দিয়ে উঠে শরীরটা আজ বেশ ঝরঝরে লাগছে।

৩৪৯. ধরি মাছ না ছুঁই পানি (কৌশলে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে কাজ উদ্ধার) : বিবাদে জড়িয়েও সুমিত এমন ভাব করল যেন সে কিছুই জানে না, একেই বলে ধরি মাছ না ছুঁই পানি।

৩৫০. ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (সত্য কোনোদিন চাপা থাকে না) : অন্যায় করে কেউ পার পায় না, শেষ পর্যন্ত খুনি ধরা পড়ল, সত্যিই ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

৩৫১. ধান ভানতে শিবের গীত (প্রাসঙ্গিক কথা ছেড়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা) : ইন্টারভিউতে কাজের কথা বাদ দিয়ে তোমার এমন ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া পরীক্ষকদের পছন্দ হয়নি।

৩৫২. ধরাকে সরা জ্ঞান করা (সবাইকে তুচ্ছ ভাবা বা অহংকার করা) : বড় চাকরি পেয়ে অহংকারে সে এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছে, কাউকে পাত্তাই দিচ্ছে না।

৩৫৩. ধর্মের ষাঁড় (অকর্মণ্য ও স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি) : বাপের অঢেল টাকা আছে বলে ছেলেটি পাড়ায় ধর্মের ষাঁড়ের মতো টো টো করে ঘুরে বেড়ায়।

৩৫৪. ধোঁয়া তুলসী পাতা (একেবারে নির্দোষ বা সাধু ব্যক্তি) : নিজের দোষ ঢাকতে যেয়ো না, তুমিও যে খুব ধোঁয়া তুলসী পাতা নও, তা পাড়ার সবাই জানে।

৩৫৫. নকঁড়া ছকঁড়া (হেয় প্রতিপন্ন করা বা মূল্যহীন করা) : সামান্য একটা ভুলের জন্য নিজের পুরনো কর্মচারীকে এভাবে বাজারে নকঁড়া ছকঁড়া করা আপনার ঠিক হয়নি।

৩৫৬. নটের গুরু (সব নষ্টের মূল বা সর্দার) : পাড়ার এই মারামারির পেছনে যে মেইন নটের গুরু, পুলিশ তাকেই খুঁজছে।

৩৫৭. নয়-ছয় করা (অপচয় বা নষ্ট করা) : বাপের কষ্টের উপার্জিত টাকাগুলো এভাবে জুয়া খেলে নয়-ছয় কোরো না।

৩৫৮. নথ নাড়া (গর্ব বা অহংকার প্রকাশ করা) : টাকা হয়েছে বলে গরিব প্রতিবেশীদের সামনে ওমন নথ নাড়ার কোনো মানে হয় না।

৩৫৯. নহবত বসা (ধুমধাম বা আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি) : জজের বাড়িতে মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে আজ চারদিকে যেন নহবত বসেছে।

৩৬০. নিকহারাম [নিমকহারাম] (অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি) : যাকে খাইয়ে-পরিয়ে মানুষ করলাম, শেষ পর্যন্ত সেই এমন নিমকহারাম হয়ে আমারই ক্ষতি করল!

৩৬১. ননির পুতুল (শ্রমবিমুখ বা অতি আদুরে ব্যক্তি) : রোদ-বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না, ছেলেটি তো দেখছি একেবারে ননির পুতুল।

৩৬২. ন যযৌ ন তস্থৌ (অনিশ্চিত অবস্থা/না এগোনো না পিছোনো) : চাকরির অফারটা গ্রহণ করব কি করব না, এই ভাবনায় আমি এখন ন যযৌ ন তস্থৌ অবস্থায় আছি।

৩৬৩. নাক গলানো (অযাচিত হস্তক্ষেপ করা) : অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে এভাবে নাক গলানো ভদ্রলোকের লক্ষণ নয়।

৩৬৪. নাকানিচুবানি (নাজেহাল বা চরম হয়রানি হওয়া) : অংকের কঠিন প্রশ্নগুলো সমাধান করতে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের একেবারে নাকানিচুবানি খেতে হলো।

৩৬৫. নাড়ির টান (গভীর আন্তরিক সম্পর্ক বা রক্তের টান) : বিদেশে যতই সুখে থাকুক না কেন, দেশের মাটির জন্য সবার বুকেই এক অদ্ভুত নাড়ির টান থাকে।

৩৬৬. পাথরে পাঁচ ফোড়ন (অসম্ভব ঘটনা) : এমন অলস ছেলের হাতে অত বড় প্রজেক্টের দায়িত্ব দেওয়া আর পাথরে পাঁচ ফোড়ন দেওয়া একই কথা।

৩৬৭. পগার পার (পালিয়ে যাওয়া বা উধাও হওয়া) : ব্যাংক থেকে কোটি টাকা লোন নিয়ে ব্যবসায়ীটি রাতারাতি দেশ ছেড়ে পগার পার হয়ে গেল।

৩৬৮. পটের বিবি (নিষ্ক্রিয় ও সাজগোজ করা নারী) : কাজের সময় ওনাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, উনি তো শুধু পটের বিবির মতো সেজে বসে থাকতে পারেন।

৩৬৯. পদ্মপাতার জল (ক্ষণস্থায়ী বা চঞ্চল অবস্থা) : মানুষের এই জীবন তো আসলে পদ্মপাতার জলের মতো, কখন যে শেষ হয়ে যাবে কেউ জানে না।

৩৭০. পরভৃত (পরজীবী বা অন্যের ওপর নির্ভরশীল) : নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করো, সারাজীবন এমন পরভৃত হয়ে থাকলে কেউ সম্মান করবে না।

৩৭১. পাকা ধানে মই দেওয়া (কারো তৈরি করা কাজে ক্ষতি করা) : গরীব চাষীটার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়ে তুমি ওনার পাকা ধানে মই দিলে।

৩৭২. পাদপ্রদীপ (সবার নজরে আসা বা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু) : অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন নাটকে তরুণ অভিনেতাটি এক লহমায় পাদপ্রদীপে চলে এলো।

৩৭৩. পাখির চোখ করা (নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অবিচল থাকা) : বড় পরীক্ষাকে পাখির চোখ করে সুনীল দিনরাত পড়াশোনা করছে।

৩৭৪. পাততাড়ি গোটানো (সব গুটিয়ে প্রস্থান করা) : ব্যবসায় ক্রমাগত লোকসান হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে দোকান বন্ধ করে পাততাড়ি গোটাতে হলো।

৩৭৫. পুকুর চুরি (বিশাল বড় জاليةতি বা অপচয়) : সরকারি রাস্তার ফান্ড থেকে এত টাকা গায়েব হয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এ তো একেবারে পুকুর চুরি।

৩৭৬. পুঁটি মাছের প্রাণ (অল্পতেই ভয় পায় যে/ক্ষুদ্র প্রাণ) : সামান্য একটু ধমক খেয়েই কেঁদে ফেললে! তোমার তো দেখছি এক্কেবারে পুঁটি মাছের প্রাণ।

৩৭৭. পোয়াবারো (পরম সৌভাগ্য বা বিরাট লাভ) : প্রোমোটিংয়ের ব্যবসায় নেমেই কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট! সুদীপের তো এখন পোয়াবারো।

৩৭৮. পণ্ডশ্রম (বৃথা খাটুনি বা নিষ্ফল চেষ্টা) : সারারাত ধরে প্রজেক্টটা বানালাম, অথচ সকালে স্যার বললেন ওটা লাগবে না—পুরোটাই পণ্ডশ্রম হলো।

৩৭৯. ফপরদালালি (অযাচিত মাতব্বরি করা) : এখানে বড় বড় মাথাদের আলোচনা হচ্ছে, তুমি বাচ্চা ছেলে এর মধ্যে ফপরদালালি করতে এসো না।

৩৮০. ফাঁকা আওয়াজ (ভিত্তিহীন হুমকি) : ওকে আমি ভালো করেই চিনি, ওসব ফাঁকা আওয়াজে কান দেওয়ার কোনো দরকার নেই, ও কিছুই করতে পারবে না।

৩৮১. ফুটো জগন্নাথ (অপদার্থ বা গুরুত্বহীন ব্যক্তি) : পার্টিতে তাকে মস্ত বড় পদ দেওয়া হলেও আসলে সে একজন ফুটো জগন্নাথ, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার নেই।

৩৮২. বগলা চটি (খুবই জীর্ণ বা ছেঁড়া জুতো) : এই পুরনো বগলা চটিটা পায়ে দিয়ে তুমি মস্ত বড় ইন্টারভিউ দিতে যাবে নাকি!

৩৮৩. বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো (বাইরে কড়া शासन কিন্তু ভেতরে শিথিলতা) : নিয়মের এত কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও চোর কীভাবে পালাল? একেই বলে বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো।

৩৮৪. বসন্তের কোকিল (সুসময়ের বন্ধু) : সুখের দিনে অনেকেই পাশে থাকে, কিন্তু দুঃখের দিনে ওই বসন্তের কোকিলদের একটাকেও খুঁজে পাওয়া যায় না।

৩৮৫. বকের ধার্মিক (ভণ্ড সাধু) : সমাজে অনেক বকের ধার্মিক লোক আছে যারা উপাসনালয়ে গিয়ে কান্নাকাটি করে আর বাইরে এসে লোক ঠকায়।

৩৮৬. بিনা মেঘে বজ্রপাত [বিনা মেঘে বজ্রপাত] (হঠাৎ অপ্রত্যাশিত মহাবিপদ) : সুস্থ-সবল মানুষটার হার্ট অ্যাটাকের খবর শুনে পরিবারের সবার মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো।

৩৮৭. বিড়াল তপস্বী (কপটি বা ভণ্ড ব্যক্তি) : সাধু বাবার বেশ ধরে যে বসে আছে, সে আসলে একটা বিড়াল তপস্বী, পুলিশ তার আসল রূপ ফাঁস করে দিয়েছে।

৩৮৮. বামেতর (ডান বা ডানদিকের) : প্রাচীন শাস্ত্রে শুভ কাজের জন্য সবসময় বামেতর হাত ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৩৮৯. বালির বাঁধ (অস্থায়ী বা ভঙ্গুর সম্পর্ক/বস্তু) : অসততার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা সম্পর্ক আসলে বালির বাঁধের মতো, যেকোনো সময় ভেঙে যায়।

৩৯০. বাঁ হাতের ব্যাপার (ঘুষ নেওয়া) : আজকাল কিছু সরকারি অফিসে বাঁ হাতের ব্যাপার ছাড়া কোনো ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নড়ে না।

৩৯১. বাঘের চোখ (দুর্লভ বস্তু বা যা সহজে পাওয়া যায় না) : এই লকডাউনের বাজারে তুমি খাঁটি খাঁটি জিনিস খুঁজছ, ও তো এখন বাঘের চোখের মতো দুর্লভ।

৩৯২. বিসমিল্লায় গলদ (শুরুতেই ভুল হওয়া) : অঙ্কের প্রথম লাইনেই তো ভুল করে বসে আছ, এভাবে বিসমিল্লায় গলদ হলে উত্তর মিলবে কীভাবে!

৩৯৩. বুদ্ধির ঢেঁকি (নিরেট মূর্খ বা নিরেট বোকা) : ছেলেটা একটা বুদ্ধির ঢেঁকি, এত সহজ একটা হিসাবও মাথায় ঢোকাতে পারল না।

৩৯৪. ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ঘটনা বা অসম্ভব ব্যাপার) : কৃপণ রামহরি বাবু নিজের পকেট থেকে গরিবদের জন্য হাজার টাকা দান করবেন! এ তো দেখছি ব্যাঙের সর্দির মতো অবাস্তব।

৩৯৫. ব্যাঙের আধুলি (সামান্য পুঁজি নিয়ে মস্ত অহংকার) : লটারিতে মোটে কয়েক হাজার টাকা পেয়েই সে এমন ভাব করছে যেন কত বড় ব্যাঙের আধুলি পেয়েছে!

৩৯৬. ভরাডুবি (চরম বিপর্যয় বা সর্বস্বান্ত হওয়া) : শেয়ার বাজারে সব টাকা খাটিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারটির একেবারে ভরাডুবি হয়ে গেল।

৩৯৭. ভস্মে ঘি ঢালা (অপাত্রে দান বা বৃথা চেষ্টা) : মূর্খ ছেলেকে এত দামী বই কিনে দেওয়া আর ভস্মে ঘি ঢালা একই কথা, ও কোনোদিন পড়বে না।

৩৯৮. ভাদুরে কাদা (অসহ্য ঘ্যানঘ্যানে অবস্থা) : সারাক্ষণ ওমন ভাদুরে কাদার মতো ঘ্যানঘ্যান কোরো না তো, যা বলার একবার পরিষ্কার করে বলো।

৩৯৯. ভানুমতীর খেল (আশ্চর্য বা ভেলকিবাজি) : চোখের পলকে জাদুকর মঞ্চ থেকে গায়েব হয়ে গেল, এ তো দেখছি একেবারে ভানুমতীর খেল!

৪০০. ভিমরুলের চাকে কাঠি দেওয়া (ভীষণ রাগী মানুষকে খ্যাপানো বা বিপদ ডেকে আনা) : অফিসের বড় বাবুর মেজাজ আজ এমনিতেই খারাপ, ওনার ফাইলে সই চাইতে যাওয়া মানে ভিমরুলের চাকে কাঠি দেওয়া।

৪০১. ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ [ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ] (প্রচুর অপচয় বা এলাহী কাণ্ড) : পাড়ার পুজোয় যেভাবে টাকা ওড়ানো হচ্ছে, তাকে পুজো না বলে ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ বলাই ভালো।

৪০২. ভূশণ্ডীর কাক (দীর্ঘজীবী ব্যক্তি বা অভিজ্ঞ প্রবীণ) : দাদামশাই এই গ্রামের সমস্ত ইতিহাসের সাক্ষী, তিনি যেন এ পাড়ার ভূশণ্ডীর কাক।

৪০৩. মগের মুল্লুক (অরাজক দেশ বা যেখানে কোনো নিয়ম নেই) : যখন খুশি দোকানে এসে জিনিসপত্র ভাঙচুর করবে! এটা কি মগের মুল্লুক পেয়েছ নাকি?

৪০৪. মণিকাঞ্চন যোগ (উপযুক্ত মিলন বা চমৎকার জিনিসের একত্র হওয়া) : যেমন রূপসী মেয়ে, তেমনই গুণী বর—আজকের এই বিয়েতে যেন এক মণিকাঞ্চন যোগ ঘটেছে।

৪০৫. মড়াকান্না (অহেতুক উচ্চস্বরে বিলাপ বা কান্নাকাটি) : সামান্য একটু হাত কেটে গেছে তাতেই পাড়া মাথায় করে এমন মড়াকান্না কাঁদার কী আছে!

৪০৬. মাছের মায়ের পুত্রশোক (মিথ্যে বা কৃত্রিম শোক প্রকাশ) : যে নিজে সৎ মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল, সে আজ ওনার মৃত্যুর খবর শুনে মাছের মায়ের পুত্রশোক দেখাচ্ছে!

৪০৭. মিছরির ছুরি (মুখে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ/কপট আচরণ) : ওর মিষ্টি কথায় ভলো না, ও হলো মিছরির ছুরি, হাসতে হাসতে মানুষের ক্ষতি করে।

৪০৮. মুখচোর (লজ্জাশীল বা মুখচোরা) : ছেলেটি বড্ড মুখচোর, মেহমানদের সামনে এলে লজ্জায় একটা কথাও বলতে পারে না।

৪০৯. মুখের গ্রাস কাড়া (বেঁচে থাকার শেষ সম্বল কেড়ে নেওয়া) : গরীব দিনমজুরটার চাকরিটা খেয়ে তোমরা ওর মুখের গ্রাস কেড়ে নিলে, ভগবান তোমাদের ক্ষমা করবেন না।

৪১০. মুড়িমুড়কির মতো (তুচ্ছ জিনিস ভাবা বা অকাতরে বিলানো) : পরীক্ষার বাজারে এই জাল প্রশ্নপত্রগুলো চারদিকে যেন মুড়িমুড়কির মতো বিক্রি হচ্ছে।

৪১১. যক্ষের ধন (কৃপণের আগলে রাখা ধন) : রামহরি বাবু নিজের জমানো টাকাগুলো কাউকে ছোঁয়া তো দূর, দেখতেও দেন না, ওগুলো যেন ওনার কাছে যক্ষের ধন।

৪১২. যমের অরুচি (যে সহজে মরে না) : এত বড় অসুখ থেকেও লোকটা দিব্যি সুস্থ হয়ে গেল, ও আসলে যমের অরুচি।

৪১৩. যমে মানুষে টানাটানি (জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ) : দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে আহত ছেলেটির জীবন নিয়ে এখন যেন যমে মানুষে টানাটানি চলছে।

৪১৪. রুই-কাতলা (প্রভাবশালী বা মস্ত বড় ব্যক্তি) : পুলিশ চুনোপুঁটি চোরদের ধরছে ঠিকই, কিন্তু এই দুর্নীতির পেছনের আসল রুই-কাতলারা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

৪১৫. রাবণের চিতা (চির অশান্তি) : ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারির কারণে ওই পরিবারে এখন যেন রাবণের চিতা জ্বলছে, শান্তির কোনো নামগন্ধ নেই।

৪১৬. রাজযোটক (চমৎকার মিল বা উপযুক্ত জোড়) : পাত্র-পাত্রী দুজনের স্বভাব আর গুণ হুবহু এক, এদের বিয়েটা একেবারে রাজযোটক হয়েছে।

৪১৭. রাঘব বোয়াল (সর্বগ্রাসী বা অতি লোভী প্রভাবশালী ব্যক্তি) : সামান্য কেরানিকে ধরে লাভ নেই, সিন্ডিকেটের আসল রাঘব বোয়ালদের না ধরলে এই জালিয়াতি বন্ধ হবে না।

৪১৮. রাতের পাহারাদার (নিশাচর বা পাহারায় নিযুক্ত ব্যক্তি) : পাহাড়ি গ্রামে বন্য হাতির উপদ্রব রুক্ষতে যুবকেরা লাঠি হাতে রাতের পাহারাদার সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

৪১৯. লাঠির মাথায় তেল দেওয়া (ক্ষমতাবানের তোষামোদ করা) : যে বড় নেতা, তাকে সবাই খাতির করে—আসলে দুনিয়াটাই এমন, সবাই লাঠির মাথায় তেল দিতে ব্যস্ত।

৪২০. লাল পানি (মদ বা মদ্যজাতীয় পানীয়) : বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসে সে এমন লাল পানি গিলল যে বাড়ি ফেরার হুঁশটুকুও রইল না।

৪২১. লেফাফা দুরস্ত (বাইরে পরিপাটি কিন্তু ভেতরে শূন্য) : পোশাক-আশাকে জামাইবাবুকে বেশ লেফাফা দুরস্ত মনে হলেও আসলে ওনার পকেটে একটা টাকাও নেই।

৪২২. লঙ্কাকাণ্ড (tumultuous বা বিশৃঙ্খলা/ঝগড়া) : পাড়ায় জল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বাড়ির মহিলাদের মধ্যে যেন এক জ্যান্ত লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেল।

৪২৩. শাঁখের করাত (উভয় সংকট) : সত্য বললে মা রাগ করেন, আর মিথ্যে বললে বাবা মারেন—আমার অবস্থা এখন অবিকল শাঁখের করাতের মতো।

৪২৪. শকুনি মামা (কুটিল পরামর্শদাতা) : ওর মতো শকুনি মামার কথা শুনে চললে তোমার সাজানো সংসারটা অল্প দিনেই ছারখার হয়ে যাবে।

৪২৫. শরতের শিশির (ক্ষণস্থায়ী বস্তু) : বড়লোকদের সুখ তো আসলে শরতের শিশিরের মতো, কখন যে কর্পূরের মতো উড়ে যায় টের পাওয়া যায় না।

৪২৬. শত্রুর মুখে ছাই (শত্রুর উদ্দেশ্য ব্যর্থ করা বা মঙ্গল হওয়া) : সব বাধা পেরিয়ে ছেলেটি পরীক্ষায় প্রথম হলো, সত্যিই শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করল।

৪২৭. শামুকের পা (অদৃশ্য বা অতি ধীর গতি) : তোমার কাজের গতি তো দেখছি শামুকের পায়ের মতো, এভাবে চললে আজ রাতেও কাজ শেষ হবে না।

৪২৮. শহুরে বাবু (ভাবনাহীন বিলাসী মানুষ) : সামান্য একটু মাটির রাস্তা দেখেই উনি ভয় পেয়ে গেলেন, এমন শহুরে বাবুদের গ্রামে না আসাই ভালো।

৪২৯. ষণ্ডামার্কা (গুণ্ডা প্রকৃতির লোক) : পাড়ার মোড়ে কিছু ষণ্ডামার্কা ছেলে রাত হলেই আড্ডা মারে, ওখান দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাই মুশকিল।

৪৩০. ষোল আনা (সম্পূর্ণ বা পুরোপুরি) : তোমার সব কথা আমি বিশ্বাস করলাম, কারণ আমি জানি তুমি যা বলেছ তা ষোল আনা সত্যি।

৪৩১. ষাঁড়ের গোঁ (ক্ষতিকর একগুঁয়েমি) : নিজের এই ষাঁড়ের গোঁ ত্যাগ করো, নতুবা এই জেদের কারণে বড় কোনো বিপদে পড়বে।

৪৩২. সপ্তম আকাশে চড়া (অত্যন্ত রেগে যাওয়া) : সামান্য কাঁচের গ্লাসটা হাত থেকে পড়ে ভাঙতেই মালকিন একেবারে সপ্তম আকাশে চড়ে বসলেন।

৪৩৩. সবুরে মেওয়া ফলে (ধৈর্য ধরলে ভালো ফল পাওয়া যায়) : তাড়াহুড়ো কোরো না, একটু অপেক্ষা করো; প্রবাদেই আছে সবুরে মেওয়া ফলে।

৪৩৪. সাপের ছুঁচো গেলা (ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক দায় ঘাড়ে নেওয়া) : অন্যায়টা করেও সে এখন পুলিশের ভয়ে চুপ করে আছে, ওনার অবস্থা এখন সাপের ছুঁচো গেলার মতো।

৪৩৫. সোনার পাথরবাটি (অবাস্তব জিনিস) : অলস মানুষের মুখে বড় বড় ব্যবসার পরিকল্পনা আসলে সোনার পাথরবাটির মতোই অবাস্তব।

৪৩৬. সোনার হরিণ (দুর্লভ বা কাঙ্ক্ষিত বস্তু) : আজকালকার দিনে একটা ভালো সরকারি চাকরি পাওয়া মধ্যবিত্তের কাছে যেন সোনার হরিণ।

৪৩৭. হস্তী মূর্খ (মস্ত বড় বোকা) : ছেলেটা যে এমন হস্তী মূর্খ তা আগে জানলে ওরে আমি কোনোদিনই এই দায়িত্ব dিতাম না।

৪৩৮. হাঁটে হাঁড়ি ভাঙা (সবার সামনে গোপন কথা ফাঁস করা) : বেশি চালাকি কোরো না, মুখ খুললে কিন্তু তোমার সব কুকীর্তির কথা আমি হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেবো।

৪৩৯. হ হ র র চ চ (বিশৃঙ্খলা বা হট্টগোল) : অফিসের বড় বাবু না আসায় কর্মচারীরা কাজ ফেলে নিজেদের মধ্যে হ হ র র চ চ জুড়ে দিয়েছে।

৪৪০. হরিঘোষের গোয়াল (বহু অপদার্থ মানুষের আড্ডাখানা) : পড়াশোনা বাদ দিয়ে তোমার এই ঘরটাকে তোমরা বন্ধুরা মিলে হরিঘোষের গোয়াল বানিয়ে ফেলেছ।

৪৪১. হাড় হাভাতে (হতভাগ্য বা চিরদরিদ্র) : এমন হাড় হাভাতে পরিবার আমি আর দেখিনি, দিনরাত খেটেও ওদের অভাব দূর হয় না।

৪৪২. হাড় জুড়ানো (শান্তি পাওয়া বা স্বস্তি পাওয়া) : এত বছর পর ছেলেটা একটা পাকা চাকরি পেল, এতদিনে বুড়ো বাপের হাড় জুড়ালো।

৪৪৩. হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল) : ব্যাংকে জমানো এই কয়েকটা টাকাই আমার হাতের পাঁচ, এটা খরচ হয়ে গেলে আমি পথে বসব।

৪৪৪. হাল ধরা (নেতৃত্ব নেওয়া বা দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া) : বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর বড় ছেলেটিই এসে সংসারের হাল ধরল।

৪৪৫. হুলস্থুল কাণ্ড (প্রচণ্ড হৈচৈ বা বড় কাণ্ড) : পাড়ায় বিখ্যাত সেলিব্রেটি আসতেই চারদিকে এক হুলস্থুল কাণ্ড বেধে গেল।

৪৪৬. অগ্নিমান্দ্য (ক্ষুধামন্দা বা হজমের অভাব) : কদিন ধরে তেল-ঝাল খেয়ে পেটে এমন অগ্নিমান্দ্য হয়েছে যে এখন কিছু খেতেই ইচ্ছে করছে না।

৪৪৭. অনাহারী বাঘ (ক্ষুধার্ত ও হিংস্র ব্যক্তি) : রাগী বসের সামনে আজ ভুলেও যেয়ো না, ওনার মেজাজ এখন অনাহারী বাঘের মতো হয়ে আছে।

৪৪৮. অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী (কম জেনে বেশি পণ্ডিতি করার কুফল) : নিজে ভালো করে না জেনে অন্যকে জ্ঞান দিতে যেয়ো না, মনে রেখো অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী।

৪৪৯. অষ্টরম্ভা (ফাঁকি বা কিছুই না পাওয়া) : মাসজুড়ে এত খাটুনি খাটলাম, অথচ বোনাসের সময় মালিক আমার হাতে অষ্টরম্ভা ধরিয়ে দিলেন।

৪৫০. আকাঙ্ক্ষার ধন (যাকে পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকে) : বহু সাধনার পর এই ট্রফিটি জিতে খেলোয়াড়টি তার আকাঙ্ক্ষার ধন ফিরে পেল।

৪৫১. আক্কেল সেলামি (নির্বুদ্ধিতার দণ্ড বা জরিমানা) : বিনা হেলমেটে বাইক চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আজ তাকে হাজার টাকা আক্কেল সেলামি দিতে হলো।

৪৫২. আগুনে ঘি ঢালা (রাগ আরও বাড়িয়ে দেওয়া) : বাবা এমনিতেই রেগে ছিলেন, তার ওপর ছোট ভাইয়ের ওই উল্টো পাল্টা যুক্তি যেন আগুনে ঘি ঢালল।

৪৫৩. আকাশ কুসুম (অসম্ভব কল্পনা) : ঘরে বসে বসে লটারি জিতে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখা আসলে আকাশ কুসুম ভাবনার মতোই অবাস্তব।

৪৫৪. আটঘাট বাঁধা (কাজের আগে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া) : প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোর্টে লড়াই করার জন্য উকিল বাবু এবার সব দিক থেকে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন।

৪৫৫. আদাজল খেয়ে লাগা (প্রাণপণ চেষ্টা করা) : পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করার জন্য রোহন এবার আদাজল খেয়ে লেগেছে।

৪৫৬. আহ্লাদে আটখানা (অত্যন্ত আনন্দিত হওয়া) : জন্মদিনে বাবার কাছ থেকে দামী বাইক উপহার পেয়ে ছেলেটি একেবারে আহ্লাদে আটখানা হয়ে গেছে।

৪৫৭. ইতর বিশেষ (তারতম্য বা সামান্য তফাত) : এই দুটো মোবাইল ফোনের ফিচারের মধ্যে খুব একটা ইতর বিশেষ চোখে পড়ে না।

৪৫৮. উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী বা বেহিসাবি খরচ করে যে) : বাবার এত সম্পত্তি পেয়ে ছেলেটি এমন উড়নচণ্ডী হয়ে উঠেছে যে, কয়েক বছরেই সব শেষ করে দেবে।

৪৫৯. উত্তম মধ্যম (প্রহার করা বা পিটুনি দেওয়া) : পকেটমারটিকে হাতেনাতে ধরে এলাকার লোকজন বেশ উত্তম মধ্যম দিল।

৪৬০. উভয় সংকট (দুদিকেই বিপদ) : সত্য বললে বন্ধু চটে, আর না বললে পুলিশ ধরে—আমি তো দেখছি চরম উভয় সংকটে পড়লাম।

৪৬১. উলোবনে মুক্তো ছড়ানো (অপাত্রে মূল্যবান জিনিস দেওয়া) : মূর্খদের সামনে দর্শনের কথা বলা আর উলোবনে মুক্তো ছড়ানো একই কথা।

৪৬২. এক চোখা (পক্ষপাতদুষ্ট) : এমন এক চোখা বিচারকের কাছ থেকে কখনোই সঠিক এবং নিরপেক্ষ বিচার আশা করা যায় না।

৪৬৩. একাদশে বৃহস্পতি (সৌভাগ্যের বিষয় বা খুব ভালো সময়) : নতুন ব্যবসায় প্রথম মাসেই দ্বিগুণ মুনাফা! তোমার তো এখন একাদশে বৃহস্পতি চলছে দেখছি।

৪৬৪. এক ক্ষুরে মাথা মুড়োনো (একই দলের বা একই স্বভাবের হওয়া) : ওদের দুজনের কারো ওপর ভরসা কোরো না, ওরা দুজনেই আসলে এক ক্ষুরে মাথা মুড়িয়েছে।

৪৬৫. ওজন বুঝে চলা (নিজের মর্যাদা ও সামর্থ্য রক্ষা করে চলা) : সমাজে শান্তি ও সম্মান নিয়ে টিকে থাকতে হলে সবসময় নিজের ওজন বুঝে চলা উচিত।

৪৬৬. কচ্ছপের কামড় (যা সহজে ছাড়ে না বা ছোটে না) : পাওনাদাররা টাকার জন্য তাগাদা দিয়ে যে কচ্ছপের কামড় ধরেছে, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় দেখছি না।

৪৬৭. কলুর বলদ (অবিরাম খাটুনি খাটে যে/পরাধীন ব্যক্তি) : সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসারের জন্য একাই খাটি, আমি যেন এই বাড়ির এক কলুর বলদ।

৪৬৮. কাগজে বাঘ (মিথ্যে বা নামমাত্র বীর) : মুখে যতই বীরত্বের কথা বলুক না কেন, আসল বিপদের সময় বোঝা যায় সে একটা কাগজে বাঘ।

৪৬৯. কাকভূষণ্ডী (দীর্ঘজীবী ব্যক্তি বা বহুদর্শী প্রবীণ) : আমাদের গ্রামের ওই বৃদ্ধ দাদামশাই যেন এক কাকভূষণ্ডী, কত কালের ইতিহাস যে ওনার জানা!

৪৭০. কান পাতলা (যে সহজেই অন্যের কথা বিশ্বাস করে) : অফিসের বস খুব কান পাতলা মানুষ, কেউ একটু কারো নামে লাগালেই চটে যান।

৪৭১. কান ভাঙানো (কুপরামর্শ দেওয়া বা গোপনে নিন্দা করা) : শাশুড়ির বিরুদ্ধে বৌমার কান ভাঙানোর লোকের অভাব নেই এ পাড়ায়।

৪৭২. কাষ্ঠ হাসি (শুকনো বা কৃত্রিম হাসি) : মনের ভেতর এত বড় ক্ষোভ ও দুঃখ লুকিয়ে রেখে বাইরে এমন কাষ্ঠ হাসি হাসা শুধু তোমার পক্ষেই সম্ভব।

৪৭৩. কুনো বিড়াল (গৃহকোণপ্রিয় বা লজ্জাশীল ব্যক্তি) : সবসময় ঘরের কোণে বসে না থেকে বাইরের দুনিয়াটাও একটু দেখো, এমন কুনো বিড়াল হয়ে থেকো না।

৪৭৪. কুঁড়ের বাদশা (ভীषण অলস ব্যক্তি) : দুপুর বারোটা বেজে গেল অথচ এখনো বিছানা ছাড়েনি, ছেলেটি একটা আস্ত কুঁড়ের বাদশা।

৪৭৫. কেঁচে গণ্ডূষ (নতুন করে শুরু করা) : হিসেবে মস্ত বড় ভুল হওয়ায় ম্যানেজার বাবু খাতাটা বন্ধ করে বললেন, "চলুন আবার কেঁচে গণ্ডূষ করা যাক।"

৪৭৬. কেঁচো খুঁড়তে সাপ (সামান্য ঘটনা থেকে বিরাট রহস্য বের হওয়া) : একটা সাধারণ চুরির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এখন আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সন্ধান পেয়েছে, একেই বলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ।

৪৭৭. কেতা দুরস্ত (পরিপাটি বা ফ্যাশনেবল) : পোশাক-আশাকে ছেলেটি বেশ কেতা দুরস্ত, কিন্তু কাজের বেলায় একদম শূন্য।

৪৭৮. কেউ কেটা (গণ্যমান্য ব্যক্তি) : সে নিজেকে মস্ত বড় কেউ কেটা মনে করে, কিন্তু আসলে এ পাড়ার তাকে কেউ চেনেও না।

৪৭৯. কৈ মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না বা খুব শক্ত প্রাণ) : অত বড় পাহাড় থেকে নিচে পড়েও লোকটা বেঁচে ফিরল! ওনার দেখছি ৈ মাছের প্রাণ।

৪৮০. খয়ের খাঁ (চাটুকার বা তোষামোদকারী) : অফিসের বসের চারপাশে কিছু খয়ের খাঁ সবসময় ঘুরে বেড়ায় নিজের ফায়দা লোটার জন্য।

৪৮১. খন্ড প্রলয় (ভীষণ কাণ্ড বা তুমুল ঝগড়া) : তুচ্ছ একটা খেলার মাঠের বিষয় নিয়ে দুই পাড়ার ছেলেদের মধ্যে যেন খন্ড প্রলয় ঘটে গেল।

৪৮২. খাল কেটে কুমির আনা (নিজের ভুলে নিজে বিপদ ডেকে আনা) : ওই দুষ্টু ছেলেটাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে তুমি নিজেই নিজের সংসারে খাল কেটে কুমির আনলে।

৪৮৩. গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ) : নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করো, গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিলে জীবনে কোনোদিন উন্নতি করতে পারবে না।

৪৮৪. গদাই লস্করি চাল (অতি ধীর গতি) : ট্রেনের সময় হয়ে এলো আর তুমি এখনো ওমন গদাই লস্করি চালে হাঁটছ!

৪৮৫. গভীর জলের মাছ (খুবই চতুর ও রহস্যময় ব্যক্তি) : সুমনকে যতটা সোজা ও सरल ভাবছ সে তা নয়, সে আসলে বেশ গভীর জলের মাছ।

৪৮৬. গরজ বড় বালাই (প্রয়োজনের তাগিদ বড় জিনিস) : এই চড়া রোদের মধ্যে কেউ খাটতে চায় না, কিন্তু গরজ বড় বালাই তাই পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে।

৪৮৭. গা ঢাকা দেওয়া (পালিয়ে যাওয়া বা আত্মগোপন করা) : পুলিশ আসার খবর পেয়েই মূল অপরাধীটি এলাকা থেকে রাতারাতি গা ঢাকা দিল।

৪৮৮. গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (কোনো দায়িত্ব না নিয়ে অবহেলায় ঘুরে বেড়ানো) : সংসারের এত বড় অভাব, আর বড় ছেলেটা কোনো কাজ না করে শুধু গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়াচ্ছে।

৪৮৯. গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা বা আসল কথা বলার আগের ভণিতা) : অত গৌরচন্দ্রিকা না করে সরাসরি কাজের কথাটা বলো তো, আমার হাতে সময় কম।

৪৯০. গোকুলের ষাঁড় (স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি) : বাপের অঢেল পয়সা আছে বলে ছেলেটি কোনো নিয়ম না মেনে পাড়ায় গোকুলের ষাঁড়ের মতো ঘুরে বেড়ায়।

৪৯১. গোঁফ খেজুরে (নিতান্ত অলস) : এমন গোঁফ খেজুরে লোকের ভাগ্যে কোনোদিন কোনো উন্নতি জোটে না, মুখে শুধু বড় বড় কথা।

৪৯২. গোবর গণেশ (মূর্খ ও জড়বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি) : ছেলেটাকে এত করে অঙ্কটা বোঝালাম, কিন্তু সে একটা গোবর গণেশ, কিছুই মাথায় ঢুকল না।

৪৯৩. গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া বা অধঃপতনে যাওয়া) : খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ভালো বাড়ির ছেলেটাও শেষ পর্যন্ত একেবারে গোল্লায় গেল।

৪৯৪. ঘোড়েল লোক (খুবই সেয়ানা বা ধূর্ত মানুষ) : বিকাশ বাবু অত্যন্ত ঘোড়েল লোক, ওনার সাথে নতুন কোনো ব্যবসার চুক্তি করার আগে সাবধান থেকো

৪৯৫. ঘোড়ার ডিম (অবাস্তব বা অলীক বস্তু) : সারাদিন এত পড়াশোনা করে পরীক্ষার খাতায় তুমি তো দেখছি মস্ত বড় এক ঘোড়ার ডিম লিখে এসেছ!

৪৯৬. ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত বিলাসী শখ) : নুন আনতে পান্তা ফুরায় যার সংসারে, তার আবার দামী আইফোন কেনার ঘোড়া রোগ জেগেছে।

৪৯৭. ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া (বিপদ কেটে গিয়ে পরম স্বস্তি পাওয়া) : হারানো দরকারি সার্টিফিকেটগুলো শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়ার পর যেন আমার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল।

৪৯৮. ঘিয়ের শ্রাদ্ধ (অপচয় করা বা অপাত্রে ব্যয়) : এমন অযোগ্য এবং অলস লোকের পেছনে এত টাকা খরচ করা মানে স্রেফ ঘিয়ের শ্রাদ্ধ করা ছাড়া আর কিছু নয়।

৪৯৯. চোখের বালি (চক্ষুশূল বা যাকে একদম সহ্য করা যায় না) : সৎ মায়ের কাছে অনাথ মেয়েটি সবসময় যেন একটা চোখের বালি হয়ে রইল।

৫০০. চোখের পর্দা (লজ্জা বা শরম) : মানুষটার চোখের পর্দা বলতে কিছু নেই, গুরুজনদের সামনেও মুখে মুখে কেমন তর্ক করে!