পোস্টমাস্টার গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্নোত্তর (MCQ)


Qs: 1 পোস্টমাস্টারকে প্রথম কাজ আরম্ভ করতে কোন গ্রামে আসতে হয়েছিল?

(A) উলাপুর

(B) নিশ্চিন্তপুর

(C) চন্দনপুর

(D) বিক্রমপুর

Qs: 2 উলাপুর গ্রামে কী থাকার কারণে সেখানে পোস্ট অফিস স্থাপিত হয়েছিল?

(A) পাঠশালা

(B) নীলকুঠি

(C) জমিদার বাড়ি

(D) রেল স্টেশন

Qs: 3 কে অনেক যোগাড় করে এই নতুন পোস্ট অফিস স্থাপন করিয়েছিলেন?

(A) কুঠির সাহেব

(B) নায়েব মঁশায়

(C) পোস্টমাস্টার

(D) গ্রামের মোড়ল

Qs: 4 পোস্টমাস্টার কোন অঞ্চলের ছেলে ছিলেন?

(A) ঢাকা

(B) শান্তিনিকেতন

(C) কলকাতা

(D) মেদিনীপুর

Qs: 5 লেখক পোস্টমাস্টারের অবস্থাকে কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

(A) খাঁচায় বন্দি পাখি

(B) ডাঙ্গায় তোলা মাছ

(C) মরুভূমির পথিক

(D) মেঘমুক্ত আকাশ

Qs: 6 পোস্টমাস্টারের অফিসটি কেমন ছিল?

(A) বড় পাকা দালান

(B) অন্ধকার আটচালা

(C) টিনের চালা

(D) দোতলা বাড়ি

Qs: 7 অফিসের অদূরে কী ছিল?

(A) খেলার মাঠ

(B) মন্দির

(C) পানাপুকুর

(D) বাজার

Qs: 8 নীলকুঠির কর্মচারীরা কেমন ছিল?

(A) খুব মিশুকে

(B) ভদ্রলোকের সাথে মিশবার উপযুক্ত নয়

(C) অত্যন্ত অলস

(D) খুব ধার্মিক

Qs: 9 কলকাতার ছেলেরা অপরিচিত স্থানে গিয়ে কেমন হয়ে থাকে?

(A) খুব আনন্দিত

(B) অত্যন্ত সাহসী

(C) উদ্ধত নয় অপ্রতিভ

(D) গম্ভীর

Qs: 10 অবসরে পোস্টমাস্টার কী করার চেষ্টা করতেন?

(A) গান গাইতে

(B) কবিতা লিখতে

(C) ছবি আঁকতে

(D) মাছ ধরতে

Qs: 11 পোস্টমাস্টারের মনে মনে কোন দৈত্যের কথা আসত?

(A) রূপকথার দৈত্য

(B) আরব্য উপন্যাসের দৈত্য

(C) সিনবাদের দৈত্য

(D) মেঘের দৈত্য

Qs: 12 পোস্টমাস্টার মনে মনে বনের বদলে কী দেখতে চেয়েছিলেন?

(A) পাহাড়

(B) সমুদ্র

(C) পাকা রাস্তা ও অট্টালিকা

(D) ফুলের বাগান

Qs: 13 পোস্টমাস্টারের রান্নার কাজ কে করে দিত?

(A) কুঠির মালি

(B) রতন

(C) গ্রামের মাসি

(D) ঝি

Qs: 14 রতনের বয়স আনুমানিক কত ছিল?

(A) ৮-৯ বছর

(B) ১০-১১ বছর

(C) ১২-১৩ বছর

(D) ১৫-১৬ বছর

Qs: 15 সন্ধ্যায় যখন বাউলের দল গান গাইত, তখন পোস্টমাস্টারের মনে কী হতো?

(A) আনন্দ হতো

(B) ঈষৎ হৃৎকম্প উপস্থিত হতো

(C) ঘুম আসত

(D) নাচতে ইচ্ছা করত

Qs: 16 রতন পোস্টমাস্টারকে কী বলে ডাকত?

(A) বাবু

(B) দাদাবাবু

(C) মাস্টার মশাই

(D) কাকা

Qs: 17 রতন দেরি করে ঘরে এসে কী বলত?

(A) "খাবার তৈরি"

(B) "কি গা বাবু, কেন ডাকছ"

(C) "আমি আসছি"

(D) "চলো বাড়ি যাই"

Qs: 18 তামাক সেজে দেওয়ার সময় রতন কীভাবে ফুঁ দিত?

(A) ধীরে ধীরে

(B) দুটি গাল ফুলিয়ে

(C) পাখা দিয়ে

(D) ফুঁ দিত না

Qs: 19 পোস্টমাস্টার ফস্ করে রতনকে কার কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন?

(A) ভাইয়ের কথা

(B) বোনের কথা

(C) মায়ের কথা

(D) বাবার কথা

Qs: 20 রতনের কাকে বেশি মনে পড়ত?

(A) মাকে

(B) বাবাকে

(C) ভাইকে

(D) ঠাকুরমাকে

Qs: 21 রতনের বাবা কখন বাড়ি ফিরতেন?

(A) দুপুর বেলা

(B) বিকেল বেলা

(C) সন্ধ্যাবেলায়

(D) গভীর রাতে

Qs: 22 বর্ষার দিনে রতন কার সাথে মাছ ধরা খেলা করেছিল?

(A) পোস্টমাস্টারের সাথে

(B) পাড়ার বন্ধুর সাথে

(C) ছোটোভাইয়ের সাথে

(D) একলা

Qs: 23 কী দিয়ে তারা মিছিমিছি মাছ ধরত?

(A) আসল ছিপ

(B) গাছের ভাঙা ডাল

(C) সুতো

(D) কঞ্চির ডাল

Qs: 24 গল্প করতে করতে রাত হয়ে গেলে কী খেয়ে রাত কাটত?

(A) বিরিয়ানি

(B) গরম ভাত

(C) সকালের বাসি ব্যঞ্জন ও রুটি

(D) ফলমূল

Qs: 25 পোস্টমাস্টার কার কাছে নিজের বাড়ির কথা বলতেন?

(A) কুঠির সাহেবের কাছে

(B) রতনের কাছে

(C) গোমস্তার কাছে

(D) কোনো বন্ধুর কাছে

Qs: 26 রতন কাকে নিজের 'দিদি' বলে কল্পনা করে নিয়েছিল?

(A) পাড়ার এক মেয়েকে

(B) পোস্টমাস্টারের দিদিকে

(C) মায়ের বোনকে

(D) কাল্পনিক চরিত্রকে

Qs: 27 একদিন বর্ষার দুপুরবেলা বাতাস কেমন ছিল?

(A) খুব ঠান্ডা

(B) প্রচণ্ড গরম

(C) ঈষৎ-তপ্ত সুকোমল

(D) ঝোড়ো

Qs: 28 নাছোড়বান্দা পাখিটি দুপুরে কী করছিল?

(A) গান গাইছিল

(B) খাবার খুঁজছিল

(C) করুণ সুরে নালিশ করছিল

(D) ঝগড়া করছিল

Qs: 29 বর্ষার সময় নিঃসঙ্গ প্রবাসে পোস্টমাস্টারের কী মনে হচ্ছিল?

(A) ঘুরতে যাওয়ার কথা

(B) কারো সেবা পাওয়ার কথা

(C) প্রচুর কাজের কথা

(D) মাছ ধরার কথা

Qs: 30 পোস্টমাস্টারের অসুস্থতায় কে মায়ের স্থান অধিকার করেছিল?

(A) গ্রামের ডাক্তার

(B) রতন

(C) কুঠির মেম

(D) পাড়ার মাসি

Qs: 31 রতন পোস্টমাস্টারকে কার হাত থেকে বটিকা বা ওষুধ খাওয়াত?

(A) মায়ের

(B) দিদির

(C) বৈদ্যের নির্দেশ মতো

(D) নিজের ইচ্ছায়

Qs: 32 সুস্থ হওয়ার পর পোস্টমাস্টার কী স্থির করলেন?

(A) এখানেই থাকবেন

(B) বিয়ে করবেন

(C) বদলি হয়ে চলে যাবেন

(D) সন্ন্যাস নেবেন

Qs: 33 বদলির দরখাস্তে তিনি কীসের কারণ দেখিয়েছিলেন?

(A) পারিবারিক সমস্যা

(B) স্থানীয় অস্বাস্থ্য

(C) বেতন বৃদ্ধি

(D) কাজের চাপ

Qs: 34 দরখাস্তের উত্তরের অপেক্ষায় থাকার সময় রতন কী করছিল?

(A) খেলা করছিল

(B) দরজার বাইরে বসে পুরনো পড়া পড়ছিল

(C) কাঁদছিল

(D) ঘুমিয়ে ছিল

Qs: 35 রতন কেন পুরনো পড়া বার বার পড়ত?

(A) পরীক্ষা ছিল বলে

(B) ভালো লাগত বলে

(C) যুক্ত-অক্ষর পাছে ভুল হয়ে যায়

(D) বই ছিল না বলে

Qs: 36 সপ্তাহখানেক পরে পোস্টমাস্টার রতনকে কী জানালেন?

(A) তাকে টাকা দেবেন

(B) কালই তিনি চলে যাচ্ছেন

(C) রতনকেও নিয়ে যাবেন

(D) তিনি থাকবেন না

Qs: 37 পোস্টমাস্টারের বদলির দরখাস্তের পরিণতি কী হয়েছিল?

(A) মঞ্জুর হয়েছিল

(B) নামঞ্জুর হয়েছিল

(C) উত্তর আসেনি

(D) হারিয়ে গিয়েছিল

Qs: 38 দরখাস্ত নামঞ্জুর হওয়ায় পোস্টমাস্টার কী করলেন?

(A) থেকে গেলেন

(B) আবার দরখাস্ত করলেন

(C) কাজে ইস্তফা (জবাব) দিলেন

(D) ছুটি নিলেন

Qs: 39 বৃষ্টির জল ঘরের কোথায় পড়ছিল?

(A) মেঝেতে

(B) বিছানায়

(C) মাটির সরার উপর

(D) ঘড়ায়

Qs: 40 রতন পোস্টমাস্টারকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে তিনি কী করেছিলেন?

(A) রেগে গিয়েছিলেন

(B) হেসেছিলেন

(C) কেঁদেছিলেন

(D) রাজি হয়েছিলেন

Qs: 41 সারারাত বালিকার কানে কী বাজছিল?

(A) পাখির ডাক

(B) বৃষ্টির শব্দ

(C) "সে কী করে হবে"

(D) গানের সুর

Qs: 42 পোস্টমাস্টারের স্নানের জল কোথা থেকে তোলা হয়েছিল?

(A) পুকুর থেকে

(B) কুয়ো থেকে

(C) নদী থেকে

(D) কলের জল

Qs: 43 নতুন পোস্টমাস্টার এলে পুরাতন জন রতনকে কী দিতে চেয়েছিলেন?

(A) জামাকাপড়

(B) বইপত্র

(C) বেতনের কিছু টাকা

(D) আশীর্বাদ

Qs: 44 টাকা দিতে চাইলে রতন কী করেছিল?

(A) টাকা নিয়েছিল

(B) খুব খুশি হয়েছিল

(C) পা জড়িয়ে ধরে না করেছিল

(D) পোস্টমাস্টারকে মেরেছিল

Qs: 45 রতন টাকা না নিয়ে কোথায় পালিয়ে গেল?

(A) পুকুর ঘাটে

(B) রান্নাঘরে

(C) এক দৌড়ে সেখান থেকে পলাইয়া গেল

(D) নতুন বাবুর কাছে

Qs: 46 বিদায়ের সময় পোস্টমাস্টারের হাতে কী ছিল?

(A) লাঠি

(B) কার্পেটের ব্যাগ

(C) লণ্ঠন

(D) বই

Qs: 47 মুটের মাথায় কী ছিল?

(A) চালের বস্তা

(B) বিছানা

(C) শ্বেত ও নীল রেখাযুক্ত টিনের পেটরা

(D) সিন্দুক

Qs: 48 যখন নৌকা ছেড়ে দিল, তখন নদীকে লেখকের কী মনে হয়েছিল?

(A) খুব শান্ত

(B) ধরিত্রীর উচ্ছলিত অশ্রুরাশি

(C) খুব ভয়ংকর

(D) রূপকথার মতো

Qs: 49 নৌকায় ওঠার পর পোস্টমাস্টারের কী মনে হয়েছিল?

(A) খুব আনন্দ

(B) ফিরে গিয়ে অনাথিনীকে নিয়ে আসি

(C) তাড়াতাড়ি পৌঁছাই

(D) ঘুম পাচ্ছে

Qs: 50 গ্রাম অতিক্রম করে কোন দৃশ্যটি পোস্টমাস্টার দেখতে পেলেন?

(A) শ্মশান

(B) মন্দির

(C) পাঠশালা

(D) নতুন অফিস

Qs: 51 পোস্টমাস্টারের মনে কোন তত্ত্বের উদয় হয়েছিল?

(A) কর্মই ধর্ম

(B) জীবনে কত বিচ্ছেদ কত মৃত্যু, পৃথিবীতে কে কার

(C) মানুষ মানুষের জন্য

(D) শিক্ষা শ্রেষ্ঠ সম্পদ

Qs: 52 রতন কার জন্য পোস্ট অফিসের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল?

(A) নতুন বাবুর জন্য

(B) দাদাবাবু যদি ফিরে আসে

(C) খাবারের জন্য

(D) খেলা করতে

Qs: 53 লেখক মানবহৃদয়কে কী বলেছেন?

(A) খুব বুদ্ধিমান

(B) পাথর

(C) বুদ্ধিহীন

(D) পবিত্র

Qs: 54 যুক্তিশাস্ত্রের বিধান মানুষের মাথায় কখন ঢোকে?

(A) তাড়াতাড়ি

(B) কখনোই না

(C) বহু বিলম্বে

(D) ছেলেবেলায়

Qs: 55 মানুষ প্রবল প্রমাণ সত্ত্বেও কাকে জড়িয়ে ধরে থাকে?

(A) দুঃখকে

(B) বাস্তবকে

(C) মিথ্যা আশাকে

(D) অতীতকে

Qs: 56 "পোস্টমাস্টার" গল্পটি কার লেখা?

(A) শরৎচন্দ্র

(B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(C) বঙ্কিমচন্দ্র

(D) বিভূতিভূষণ

Qs: 57 রতন কেমন বালিকা ছিল?

(A) খুব ধনী

(B) অনাথিনী

(C) দুষ্টু

(D) শহুরে

Qs: 58 গল্পের শেষে রতনের কী অবস্থা হয়েছিল?

(A) সে কলকাতায় চলে গেল

(B) সে অন্য কাজ পেল

(C) অশ্রুজলে ভাসতে লাগল

(D) সে বিয়ে করল

Qs: 59 পোস্টমাস্টার কবিতা লিখে কী প্রকাশ করতে চাইতেন?

(A) বনের অন্ধকার

(B) প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সুখ

(C) গ্রামের মানুষের কষ্ট

(D) অফিসের চাপ

Qs: 60 পোস্টমাস্টার প্রকৃতপক্ষে কীসের জন্য ছটফট করতেন?

(A) টাকার জন্য

(B) প্রকৃতির জন্য

(C) শহরের জীবনের জন্য

(D) রতনের জন্য

Qs: 61 'পোস্টমাস্টার' গল্পটি কোন ঋতুর পটভূমিতে শুরু হয়েছে?

(A) বসন্ত

(B) গ্রীষ্ম

(C) বর্ষা

(D) শরৎ

Qs: 62 রতন কার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল?

(A) নতুন পোস্টমাস্টার

(B) পুরাতন পোস্টমাস্টার

(C) গ্রামের বৈদ্য

(D) কুঠির সাহেব

Qs: 63 পোস্টমাস্টার রতনকে কী শেখাতেন?

(A) গান

(B) হাতের কাজ

(C) পড়াশোনা

(D) রান্না

Qs: 64 রতন ও পোস্টমাস্টারের সম্পর্কের মূল ভিত্তি কী ছিল?

(A) টাকা

(B) আত্মীয়তা

(C) একাকিত্ব ও স্নেহ

(D) ঘৃণা

Qs: 65 উলাপুর গ্রামটি কেমন ছিল?

(A) অতি সামান্য/গণ্ডগ্রাম

(B) খুব উন্নত

(C) বিখ্যাত তীর্থস্থান

(D) শিল্পাঞ্চল

Qs: 66 রতন কেন বিছানায় জেগে বসে থাকত?

(A) ভয়ে

(B) পড়ার জন্য

(C) পোস্টমাস্টারের সেবার জন্য

(D) বৃষ্টির শব্দে

Qs: 67 "সে কী করে হবে" - কথাটি কে বলেছিলেন?

(A) রতন

(B) পোস্টমাস্টার

(C) গোমস্তা

(D) নতুন বাবু

Qs: 68 রতন কোন কথাটি সহ্য করতে পারেনি?

(A) তিরস্কার

(B) কঠিন কথা

(C) নরম ও দয়ার্দ্র কথা

(D) নীরবতা

Qs: 69 পোস্টমাস্টার চলে যাওয়ার সময় কার কথা নতুন বাবুকে বলে যেতে চেয়েছিলেন?

(A) কুঠির সাহেবের

(B) নিজের মায়ের

(C) রতনের

(D) মাঝির

Qs: 70 নৌকায় থাকাকালীন পোস্টমাস্টার কীসের অভাব বোধ করছিলেন?

(A) খাবারের

(B) বইয়ের

(C) আত্মীয় মানুষের

(D) ছাতার

Qs: 71 উলাপুর গ্রামটি কোথায় অবস্থিত ছিল?

(A) পাহাড়ের কোলে

(B) নদীর ধারে

(C) জঙ্গলের মধ্যে

(D) মরুভূমিতে

Qs: 72 রতন যখন কাজ করত, তখন পোস্টমাস্টার কী করতেন?

(A) ঘুমাতেন

(B) তামাক খেতেন ও গল্প করতেন

(C) লিখতেন

(D) কাজ করতেন

Qs: 73 রতনের মনে মায়ের স্মৃতি কেমন ছিল?

(A) খুব স্পষ্ট

(B) একদম নেই

(C) কতক মনে পড়ে, কতক পড়ে না

(D) ডায়েরিতে লেখা ছিল

Qs: 74 'উলাপুর' গ্রামের পরিবেশ কেমন ছিল?

(A) খুব কোলাহলপূর্ণ

(B) শান্ত ও জঙ্গল ঘেরা

(C) খুব আধুনিক

(D) উৎসবমুখর

Qs: 75 পোস্টমাস্টারের আটচালাটি কেমন ছিল?

(A) নতুন

(B) রঙিন

(C) জীর্ণ ও অন্ধকার

(D) বড় হলঘর

Qs: 76 রতন কার মতো পোস্টমাস্টারের বাড়িতে যেতে চেয়েছিল?

(A) দাসীর মতো

(B) পরিবারের লোকের মতো

(C) বন্ধুর মতো

(D) কাজের লোকের মতো

Qs: 77 গল্পের শেষে পোস্টমাস্টার কীসের ওপর দিয়ে নদী পার হচ্ছিলেন?

(A) স্টিমার

(B) বড় জাহাজ

(C) নৌকা

(D) সাঁকো

Qs: 78 রতন কেন নতুন পোস্টমাস্টারের কাছে থাকতে চাইল না?

(A) সে ভয় পেয়েছিল

(B) সে শহর যেতে চায়

(C) আবেগের কারণে

(D) কাজ করতে পারবে না বলে

Qs: 79 নীলকুঠির সাহেবের কুঠিটি কোথায় ছিল?

(A) গ্রামের মাঝখানে

(B) স্টেশনের পাশে

(C) গ্রামের কাছেই

(D) অন্য গ্রামে

Qs: 80 রতন পড়াশোনায় কেমন ছিল?

(A) খুব ভালো

(B) যুক্ত-অক্ষর নিয়ে চিন্তিত ছিল

(C) পড়তে জানত না

(D) অত্যন্ত অমনোযোগী

Qs: 81 পোস্টমাস্টার উলাপুরে আসার আগে কোথায় থাকতেন?

(A) বিলেতে

(B) গ্রামে

(C) কলকাতায়

(D) শান্তিনিকেতনে

Qs: 82 পোস্টমাস্টার রতনকে কী বলে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন?

(A) তিনি আবার আসবেন

(B) নতুন বাবু যত্ন করবেন

(C) অনেক টাকা দেবেন

(D) চিঠি লিখবেন

Qs: 83 রতনের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

(A) লোভ

(B) সরলতা ও গভীর মমতা

(C) চাতুর্য

(D) ক্রোধ

Qs: 84 পোস্টমাস্টারকে কেন 'আধমরা ভদ্রসন্তান' বলা হয়েছে?

(A) তিনি খুব রুগ্ন ছিলেন

(B) গ্রাম্য জীবনে অভ্যস্ত হতে না পারায়

(C) কাজ করতে পারতেন না বলে

(D) টাকা কম ছিল বলে

Qs: 85 "পৃথিবীতে কে কাহার" - এই ভাবটি কার মনে এসেছিল?

(A) রতনের

(B) কুঠির সাহেবের

(C) পোস্টমাস্টারের

(D) মাঝির

Qs: 86 রতন টাকা না নিয়ে কোথায় গিয়েছিল?

(A) রান্নাঘরে

(B) নদীর ঘাটে

(C) এক দৌড়ে পলায়ন করল

(D) নতুন বাবুর ঘরে

Qs: 87 পোস্টমাস্টার কেন রতনকে সাথে নিতে পারেননি?

(A) টিকিটের দাম ছিল না

(B) পরিবার মেনে নেবে না

(C) অসম্ভব ও লোকলজ্জার কারণে

(D) রতন যেতে চায়নি

Qs: 88 রতন পোস্টমাস্টারকে কী জিজ্ঞাসা করেছিল যখন তিনি চলে যাচ্ছিলেন?

(A) "কবে ফিরবে?"

(B) "আমাকে নিয়ে যাবে?"

(C) "টাকা দিয়ে যাও"

(D) "চলো মাছ ধরি"

Qs: 89 গল্পের করুণ পরিণতির জন্য দায়ী কে?

(A) রতন

(B) পরিস্থিতি ও একাকিত্ব

(C) নতুন পোস্টমাস্টার

(D) নীলকুঠির সাহেব

Qs: 90 পোস্টমাস্টার কখন চলে যাওয়ার জন্য তৈরি হলেন?

(A) সকালে

(B) দুপুরে

(C) সন্ধ্যায়

(D) গভীর রাতে

Qs: 91 পোস্টমাস্টারের বেতনের পরিমাণ কেমন ছিল?

(A) অনেক

(B) অতি সামান্য

(C) মাঝারি

(D) ছিল না

Qs: 92 "রতন আর বালিকা রহিল না" - কথাটির অর্থ কী?

(A) সে বড় হয়ে গেছে

(B) সে বুদ্ধিমতী হয়ে গেছে

(C) সে মাতৃত্বের মমতা দিয়ে সেবা করছে

(D) সে বিয়ে করেছে

Qs: 93 উলাপুর গ্রামে পোস্টমাস্টার কার সাথে মিশতেন?

(A) নীলকুঠির কর্মচারীদের সাথে

(B) গ্রামের লোকেদের সাথে

(C) বিশেষ কারোর সাথেই নয়

(D) মুটেদের সাথে

Qs: 94 রতন কার জন্য অপেক্ষা করত?

(A) বাবার জন্য

(B) পোস্টমাস্টারের ডাকের জন্য

(C) বৃষ্টির জন্য

(D) খাবারের জন্য

Qs: 95 রতন ও পোস্টমাস্টারের কথোপকথন চলত কোথায়?

(A) পানাপুকুরে

(B) নীলকুঠিতে

(C) অন্ধকার দাওয়ায়

(D) শ্মশানে

Qs: 96 গল্পের শেষে রতন কীসের ওপর ভাসছিল?

(A) নদীর জলে

(B) মেঘের রাজ্যে

(C) অশ্রুজলে

(D) আনন্দের জোয়ারে

Qs: 97 পোস্টমাস্টার বিদায়বেলায় কী প্রকাশ করেছিলেন?

(A) দীর্ঘনিশ্বাস

(B) হাসি

(C) চিৎকার

(D) বিরক্তি

Qs: 98 "ভ্রান্তি কিছুতেই ঘোচে না" - এখানে কোন ভ্রান্তির কথা বলা হয়েছে?

(A) হিসাবের ভুল

(B) ফিরে আসার মিথ্যা আশা

(C) রাস্তার ভুল

(D) নাম ভুল করা

Qs: 99 রতন পোস্টমাস্টারকে কী বটিকা খাওয়াত?

(A) মাথা ব্যথার

(B) বৈদ্যের দেওয়া ওষুধ

(C) গাছগাছড়া

(D) নিজের তৈরি ওষুধ

Qs: 100 পোস্টমাস্টারের চলে যাওয়া রতনের কাছে কীসের মতো ছিল?

(A) মুক্তির মতো

(B) আনন্দের মতো

(C) হৃদয়ের রক্ত শুষে পলায়নের মতো

(D) স্বাভাবিক ঘটনার মতো

 

 

ANSWER KEY

1.(A), 2.(B), 3.(A), 4.(C), 5.(B), 6.(B), 7.(C), 8.(B), 9.(C), 10.(B), 11.(B), 12.(C), 13.(B), 14.(C), 15.(B), 16.(B), 17.(B), 18.(B), 19.(C), 20.(B), 21.(C), 22.(C), 23.(B), 24.(C), 25.(B), 26.(B), 27.(C), 28.(C), 29.(B), 30.(B), 31.(C), 32.(C), 33.(B), 34.(B), 35.(C), 36.(B), 37.(B), 38.(C), 39.(C), 40.(B), 41.(C), 42.(C), 43.(C), 44.(C), 45.(C), 46.(B), 47.(C), 48.(B), 49.(B), 50.(A), 51.(B), 52.(B), 53.(C), 54.(C), 55.(C), 56.(B), 57.(B), 58.(C), 59.(B), 60.(C), 61.(C), 62.(B), 63.(C), 64.(C), 65.(A), 66.(C), 67.(B), 68.(C), 69.(C), 70.(C), 71.(B), 72.(B), 73.(C), 74.(B), 75.(C), 76.(B), 77.(C), 78.(C), 79.(C), 80.(B), 81.(C), 82.(B), 83.(B), 84.(B), 85.(C), 86.(C), 87.(C), 88.(B), 89.(B), 90.(A), 91.(B), 92.(C), 93.(C), 94.(B), 95.(C), 96.(C), 97.(A), 98.(B), 99.(B), 100.(C).

 

পোস্টমাস্টার (মূল গল্প): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পোস্টমাস্টার : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্টমাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোআপিস স্থাপন করাইয়াছে।

আমাদের পোস্টাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্টমাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে।

বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায়-কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্তা বানাইয়া দেয়, এবং সারিসারি অট্টালিকা আকাশের মেঘকে দৃষ্টিপথ হইতে রুদ্ধ করিয়া রাখে, তাহা হইলে এই আধমরা ভদ্রসন্তানটি পুনশ্চ নবজীবন লাভ করিতে পারে।

পোস্টমাস্টারের বেতন অতি সামান্য। নিজে রাঁধিয়া খাইতে হয় এবং গ্রামের একটি পিতৃমাতৃহীন অনাথা বালিকা তাঁহার কাজকর্ম করিয়া দেয়, চারিটি-চারিটি খাইতে পায়। মেয়েটির নাম রতন। বয়স বারো-তেরো। বিবাহের বিশেষ সম্ভাবনা দেখা যায় না। সন্ধ্যার সময় যখন গ্রামের গোয়ালঘর হইতে ধূম কুণ্ডলায়িত হইয়া উঠিত, ঝোপে ঝোপে ঝিল্লি ডাকিত, দূরে গ্রামের নেশাখোর বাউলের দল খোল-করতাল বাজাইয়া উচ্চৈঃস্বরে গান জুড়িয়া দিত-যখন অন্ধকার দাওয়ায় একলা বসিয়া গাছের কম্পন দেখিলে কবিহৃদয়েও ঈষৎ হৃৎকম্প উপস্থিত হইত, তখন ঘরের কোণে একটি ক্ষীণশিখা প্রদীপ জ্বালিয়া পোস্টাস্টার ডাকিতেন, "রতন”। রতন দ্বারে বসিয়া এই ডাকের জন্য অপেক্ষা করিয়া থাকিত কিন্তু এক ডাকেই ঘরে আসিত না; বলিত, "কি গা বাবু, কেন ডাকছ।”

পোস্টাস্টার। তুই কী করছিস।

রতন। এখনই চুলো ধরাতে যেতে হবে-হেঁশেলের-

পোস্টাস্টার। তোর হেঁশেলের কাজ পরে হবে এখন-একেবার তামাকটা সেজে দে তো।

অনতিবিলম্বে দুটি গাল ফুলাইয়া কলিকায় ফুঁ দিতে দিতে রতনের প্রবেশ। হাত হইতে কলিকাটা লইয়া পোস্টমাস্টার ফস্ করিয়া জিজ্ঞাসা করেন, "আচ্ছা রতন, তোর মাকে মনে পড়ে?” সে অনেক কথা, কতক মনে পড়ে, কতক মনে পড়ে না। মায়ের চেয়ে বাপ তাহাকে বেশি ভালোবাসিত, বাপকে অল্প অল্প মনে আছে। পরিশ্রম করিয়া বাপ সন্ধ্যাবেলায় ঘরে ফিরিয়া আসিত, তাহারই মধ্যে দৈবাৎ দুটি-একটি সন্ধ্যা তাহার মনে পরিষ্কার ছবির মতো অঙ্কিত আছে। এই কথা হইতে হইতে ক্রমে রতন পোস্টাস্টারের পায়ের কাছে মাটির উপর বসিয়া পড়িত। মনে পড়িত, তাহার একটি ছোটোভাই ছিল-বহু পূর্বেকার বর্ষার দিনে একদিন একটা ডোবার ধারে দুইজনে মিলিয়া গাছের ভাঙা ডালকে ছিপ করিয়া মিছামিছি মাছধরা খেলা করিয়াছিল-অনেক গুরুতর। ঘটনার চেয়ে সেই কথাটাই তাহার মনে বেশি উদয় হইত। এইরূপ কথাপ্রসঙ্গে মাঝে মাঝে বেশি রাত হইয়া যাইত, তখন আলস্যক্রমে পোস্টাস্টারের আর রাঁধিতে ইচ্ছা করিত না। সকালের বাসি ব্যঞ্জন থাকিত এবং রতন তাড়াতাড়ি উনুন ধরাইয়া খানকয়েক বুটি সেঁকিয়া আনিত-তাহাতেই উভয়ের রাত্রের আহার চলিয়া যাইত।

এক-একদিন সন্ধ্যাবেলায় সেই বৃহৎ আটচালার কোণে আপিসের কাঠের চৌকির উপর বসিয়া পোস্ট্র্যাস্টারও নিজের ঘরের কথা পাড়িতেন-ছোটোভাই মা এবং দিদির কথা, প্রবাসে একলা ঘরে বসিয়া যাহাদের জন্য হৃদয় ব্যথিত হইয়া উঠিত তাহাদের কথা। যে-সকল কথা সর্বদাই মনে উদয় হয় অথচ নীলকুঠির গোমস্তাদের কাছে যাহা কোনোমতেই উত্থাপন করা যায় না, সেই কথা একটি অশিক্ষিতা ক্ষুদ্র বালিকাকে বলিয়া যাইতেন, কিছুমাত্র অসংগত মনে হইত না। অবশেষে এমন হইল, বালিকা কথোপকথনকালে তাঁহার ঘরের লোকদিগকে মা, দিদি, দাদা বলিয়া চির-পরিচিতের ন্যায় উল্লেখ করিত। এমন-কি, তাহার ক্ষুদ্র হৃদয়পটে বালিকা তাঁহাদের কাল্পনিক মূর্তিও চিত্রিত করিয়া লইয়াছিল।

একদিন বর্ষাকালে মেঘমুক্ত দ্বিপ্রহরে ঈষৎ-তপ্ত সুকোমল বাতাস দিতেছিল; রৌদ্রে ভিজা ঘাস এবং গাছপালা হইতে একপ্রকার গন্ধ উত্থিত হইতেছিল; মনে হইতেছিল, যেন ক্লান্ত ধরণীর উন্নয় নিশ্বাস গায়ের উপরে আসিয়া লাগিতেছে, এবং কোথাকার এক নাছোড়বান্দা পাখি তাহার একটা একটানা সুরের নালিশ সমস্ত দুপুরবেলা প্রকৃতির দরবারে অত্যন্ত করুণস্বরে বার বার আবৃত্তি করিতেছিল। পোস্টাস্টারের হাতে কাজ ছিল না-সেদিনকার বৃষ্টিধৌত মসৃণ চিক্কণ তরুপল্লবের হিল্লোল এবং পরাভূত বর্ষার ভগ্নাবশিষ্ট রৌদ্রশুভ্র স্তূপাকার মেঘস্তর বাস্তবিকই দেখিবার বিষয় ছিল; পোস্টমাস্টার তাহা দেখিতেছিলেন এবং ভাবিতেছিলেন, এই সময় কাছে একটি-কেহ নিতান্ত আপনার লোক থাকিত-হৃদয়ের সহিত একান্ত সংলগ্ন একটি স্নেহপুত্তলি মানবমূর্তি। ক্রমে মনে হইতে এই নিতান্ত নিঃসঙ্গ প্রবাসে ঘনবর্ষায় রোগকাতর শরীরে একটুখানি সেবা পাইতে ইচ্ছা করে। তপ্ত ললাটের উপর শাঁখাপরা কোমল হস্তের স্পর্শ মনে পড়ে। এই ঘোর প্রবাসে রোগযন্ত্রণায় স্নেহময়ী নারী-রূপে জননী ও দিদি পাশে বসিয়া আছেন এই কথা মনে করিতে ইচ্ছা করে, এবং এ স্থলে প্রবাসীর মনের অভিলাষ ব্যর্থ হইল না। বালিকা রতন আর বালিকা রহিল না। সেই মুহূর্তেই সে জননীর পদ অধিকার করিয়া বসিল, বৈদ্য ডাকিয়া আনিল, যথাসময়ে বটিকা খাওয়াইল, সারারাত্রি শিয়রে জাগিয়া রহিল, আপনি পথ্য রাঁধিয়া দিল, এবং শতবার করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, "হাঁগো দাদাবাবু, একটুখানি ভালো বোধ হচ্ছে কি।”

বহুদিন পরে পোস্টমাস্টার ক্ষীণ শরীরে রোগশয্যা ত্যাগ করিয়া উঠিলেন, মনে স্থির করিলেন, আর নয়, এখান হইতে কোনোমতে বদলি হইতে হইবে। স্থানীয় অস্বাস্থ্যের উল্লেখ করিয়া তৎক্ষণাৎ কলিকাতায় কর্তৃপক্ষদের নিকট বদলি হইবার জন্য দরখাস্ত করিলেন।

রোগসেবা হইতে নিষ্কৃতি পাইয়া রতন দ্বারের বাহিরে আবার তাহার স্বস্থান অধিকার করিল। কিন্তু পূর্ববৎ আর তাহাকে ডাক পড়ে না। মাঝে মাঝে উঁকি মারিয়া দেখে, পোস্টাস্টার অত্যন্ত অন্যমনস্কভাবে চৌকিতে বসিয়া অথবা খাটিয়ায় শুইয়া আছেন। রতন যখন আহ্বান প্রত্যাশা করিয়া বসিয়া আছে, তিনি তখন অধীরচিত্তে তাঁহার দরখাস্তের উত্তর প্রতীক্ষা করিতেছেন। বালিকা দ্বারের বাহিরে বসিয়া সহস্রবার করিয়া তাহার পুরানো পড়া পড়িল। পাছে যেদিন সহসা ডাক পড়িবে সেদিন তাহার যুক্ত-অক্ষর সমস্ত গোলমাল হইয় যায়, এই তাহার একটা আশঙ্কা ছিল। অবশেষে সপ্তাহখানেক পরে একদিন সন্ধ্যাবেলায় ডাক পড়িল। উদ্বেলিতহৃদয়ে রতন গৃহের মধে প্রবেশ করিয়া বলিল, "দাদাবাবু, আমাকে ডাকছিলে?"

পোস্টাস্টার বলিলেন, "রতন, কালই আমি যাচ্ছি।"

রতন। কোথায় যাচ্ছ, দাদাবাবু।

পোস্টাস্টার। বাড়ি যাচ্ছি।

রতন। আবার কবে আসবে।

পোস্টমাস্টার। আর আসব না।

রতন আর কোনো কথা জিজ্ঞাসা করিল না। পোস্টমাস্টার আপনিই তাহাকে বলিলেন, তিনি বদলির জন্য দরখাস্ত করিয়াছিলেন দরখাস্ত নামঞ্জুর হইয়াছে; তাই তিনি কাজে জবাব দিয়া বাড়ি যাইতেছেন। অনেকক্ষণ আর কেহ কোনো কথা কহিল না। মিমিট্ করিয়া প্রদীপ জ্বলিতে লাগিল এবং এক স্থানে ঘরের জীর্ণ চাল ভেদ করিয়া একটি মাটির সরার উপর টপ্টপ্ করিয়া বৃষ্টির জল পড়িতে লাগিল।

কিছুক্ষণ পরে রতন আস্তে আস্তে উঠিয়া রান্নাঘরে বুটি গড়িতে গেল। অন্য দিনের মতো তেমন চট্ হইল না। বোধ করি মধ্যে মধ্যে মাথায় অনেক ভাবনা উদয় হইয়াছিল। পোেস্ট্রাস্টারের আহার সমাপ্ত হইলে পর বালিকা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, "দাদাবাবু, আমাকে তোমাদের বাড়ি নিয়ে যাবে?”

পোস্টমাস্টার হাসিয়া কহিলেন, "সে কী করে হবে।” ব্যাপারটা যে কী কী কারণে অসম্ভব তাহা বালিকাকে বুঝানো আবশ্যক বোধ করিলেন না।

সমস্ত রাত্রি স্বপ্নে এবং জাগরণে বালিকার কানে পোস্টমাস্টারের হাস্যধ্বনির কণ্ঠস্বর বাজিতে লাগিল-'সে কী করে হবে।'

ভোরে উঠিয়া পোস্টমাস্টার দেখিলেন, তাঁহার স্নানের জল ঠিক আছে; কলিকাতার অভ্যাস-অনুসারে তিনি তোলা জলে স্নান করিতেন। কখন তিনি যাত্রা করিবেন সে কথা বালিকা কী কারণে জিজ্ঞাসা করিতে পারে নাই; পাছে প্রাতঃকালে আবশ্যক হয় এইজন্য রতন তত রাত্রে নদী হইতে তাঁহার স্নানের জল তুলিয়া আনিয়াছিল।

স্নান সমাপন হইলে রতনের ডাক পড়িল। রতন নিঃশব্দে গৃহে প্রবেশ করিল এবং আদেশ প্রতীক্ষায় একবার নীরবে প্রভুর মুখের দিকে চাহিল। প্রভু কহিলেন, "রতন, আমার জায়গায় যে লোকটি আসবেন তাঁকে বলে দিয়ে যাব, তিনি তোকে আমারই মতন যত্ন করবেন। আমি যাচ্ছি বলে তোকে কিছু ভাবতে হবে না।” এই কথাগুলি যে অত্যন্ত স্নেহগর্ভ এবং দয়ার্দ্র হৃদয় হইতে উত্থিত সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই, কিন্তু নারীহৃদয় কে বুঝিবে। রতন অনেকদিন প্রভুর অনেক তিরস্কার নীরবে সহ্য করিয়াছে কিন্তু এই নরম কথা সহিতে পারিল না। একেবারে উচ্ছ্বসিত হৃদয়ে কাঁদিয়া উঠিয়া কহিল, “না না, তোমার কাউকে কিছু বলতে হবে না, আমি থাকতে চাই নে।”

পোস্টাস্টার রতনের এরূপ ব্যবহার কখনো দেখেন নাই, তাই অবাক হইয়া রহিলেন।

নূতন পোস্টাস্টার আসিল। তাহাকে সমস্ত চার্জ বুঝাইয়া দিয়া পুরাতন পোস্টাস্টার গমনোন্মুখ হইলেন। যাইবার সময় রতনকে ডাকিয়া বলিলেন, "রতন, তোকে আমি কখনো কিছু দিতে পারি নি। আজ যাবার সময় তোকে কিছু দিয়ে গেলুম, এতে তোর দিন কয়েক চলবে।"

কিছু পথখরচা বাদে তাঁহার বেতনের যত টাকা পাইয়াছিলেন পকেট হইতে বাহির করিলেন। তখন রতন ধুলায় পড়িয়া তাঁহার পা জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, "দাদাবাবু, তোমার দুটি পায়ে পড়ি, তোমার দুটি পায়ে পড়ি, আমাকে কিছু দিতে হবে না; তোমার দুটি পায়ে পড়ি, আমার জন্যে কাউকে কিছু ভাবতে হবে না”-বলিয়া এক-দৌড়ে সেখান হইতে পলাইয়া গেল।

ভূতপূর্ব পোস্টাস্টার নিশ্বাস ফেলিয়া, হাতে কার্পেটের ব্যাগ ঝুলাইয়া, কাঁধে ছাতা লইয়া, মুটের মাথায় নীল ও শ্বেত রেখায় চিত্রিত টিনের পেটরা তুলিয়া ধীরে ধীরে নৌকাভিমুখে চলিলেন।

যখন নৌকায় উঠিলেন এবং নৌকা ছাড়িয়া দিল, বর্ষাবিস্ফারিত নদী ধরণীর উচ্ছলিত অশ্রুরাশির মতো চারি দিকে ছলছল করিতে লাগিল, তখন হৃদয়ের মধ্যে অত্যন্ত একটা বেদনা অনুভব করিতে লাগিলেন-একটি সামান্য গ্রাম্য বালিকার করুণ মুখচ্ছবি যেন এক বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অব্যক্ত মর্মব্যথা প্রকাশ করিতে লাগিল। একবার নিতান্ত ইচ্ছা হইল, 'ফিরিয়া যাই, জগতের ক্রোড়বিচ্যুত সেই অনাথিনীকে সঙ্গে করিয়া লইয়া আসি'-কিন্তু তখন পালে বাতাস পাইয়াছে, বর্ষার স্রোত খরতর বেগে বহিতেছে, গ্রাম অতিক্রম করিয়া নদীকূলের শ্মশান দেখা দিয়াছে-এবং নদীপ্রবাহে ভাসমান পথিকের উদাস হৃদয়ে এই তত্ত্বের উদয় হইল-জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।

কিন্তু রতনের মনে কোনো তত্ত্বের উদয় হইল না। সে সেই পোট্রপিস গৃহের চারি দিকে কেবল অশ্রুজলে ভাসিয়া ঘুরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল। বোধ করি তাহার মনে ক্ষীণ আসা জাগিতেছিল, দাদাবাবু যদি ফিরিয়া আসে-সেই বন্ধনে পড়িয়া কিছুতেই দূরে যাইতে পারিতেছিল না। হায় বুদ্ধিহীন মানবহৃদয়! ভ্রান্তি কিছুতেই ঘোচে না, যুক্তিশাস্ত্রের বিধান বহু বিলম্বে মাথায় প্রবেশ করে, প্রবল প্রমাণকেও অবিশ্বাস করিয়া মিথ্যা আশাকে দুই বাহুপাশে বাঁধিয়া বুকের ভিতরে প্রাণপণে জড়াইয়া ধরা যায়, অবশেষে একদিন সমস্ত নাড়ী কাটিয়া হৃদয়ের রক্ত শুষিয়া সে পলায়ন করে, তখন চেতনা হয় এবং দ্বিতীয় ভ্রান্তিপাশে পড়িবার জন্য চিত্ত ব্যাকুল হইয়া উঠে।